আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ! এফবিআইয়ের স্ক্যানারে আর্জেন্তিনার ফুটবল ফেডারেশন


বিশ্বকাপে মিশরের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে বিতর্ক এখনও টাটকা। রেফারিং নিয়ে বিস্তর জলঘোলা। এর মধ্যে নতুন বিপদ। আর্জেন্তিনীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে এবার তদন্তে নামল খোদ এফবিআই । কেন্দ্রে আর্থিক তছরুপ ও বেআইনি অর্থ পাচারের মারাত্মক অভিযোগ।

আর্জেন্তিনার বিখ্যাত সংবাদপত্র 'লা ন্যাসিওন'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এএফএ-র আর্থিক লেনদেন আতসকাচের নীচে। ফেডারেশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার ভূমিকা ঘিরে ঘনীভূত কালো মেঘ। মার্কিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে কীভাবে এই বিপুল অর্থ পাচার, সেটাই তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ফৌজদারি অপরাধ লুকিয়ে কি না, এই নিয়ে চলছে চিরুনি তল্লাশি।

ফ্লোরিডার কোম্পানি ও বিপুল অর্থের খেলা

রিপোর্টে উঠে এসেছে ফ্লোরিডা-ভিত্তিক একটি কোম্পানির নাম। 'ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি'। যারা বিদেশে এএফএ-র সমস্ত আর্থিক লেনদেন সামলায়। আপাতত তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে (Argentine Football Association)। সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত কয়েক মাসে পাওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৫ সালের শেষ এবং চলতি বছরের শুরুতে জিলেট ও ফারোনি অন্তত কয়েকশো মিলিয়ন ডলার লেনদেন করেছেন। ফারোনি বুয়েনস আয়ার্সের প্রাক্তন বিধায়ক। কাজে লাগানো হয়েছে আমেরিকার পাঁচটি প্রথম সারির ব্যাঙ্ক। সিটিব্যাঙ্ক, সিনোভায়াস, ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা, জেপি মর্গ্যান এবং পিএনসি ব্যাঙ্ক। বিপুল অর্থের উৎস ও গন্তব্য ঘিরেই দানা বেঁধেছে রহস্য।

উধাও ৫ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার

সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে এএফএ-র অন্তত ২৬ কোটি ডলার রাজস্ব সামলেছে ওই ফ্লোরিডার কোম্পানি। লা ন্যাসিওনের রিপোর্ট মতে, ‘তহবিলের মাত্র একাংশ তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন সংগঠনের বৈধ খরচের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত!’ বাকি টাকার হিসেবে গড়মিল।

সংবাদপত্রটির জোরালো দাবি, ‘৫ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার বিভিন্ন কোম্পানি ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিলি করা হয়েছে, কাগজপত্রে যার কোনও আর্থিক হিসেব নেই!’ সবচেয়ে বিস্ময়কর এই ভূতুড়ে প্রাপকদের পরিচয়। এমন কিছু কোম্পানিকে লক্ষ লক্ষ ডলার পাঠানো হয়েছে, বাস্তবে যারা অস্তিত্বহীন অথবা এখন অচল। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রকরা বুয়েনস আয়ার্স বা বারিলোচেতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। খোদ সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল তারা (Football Corruption)!

তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

বিতর্ক ক্লদিও তাপিয়ার নিত্যসঙ্গী। এএফএ সভাপতি হিসেবে তাঁর কার্যকাল বরাবরই সংশয়ে মোড়া। এর আগে গত মার্চ মাসেই তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ ওঠে (Claudio Tapia)। আইনি লড়াই এখনও চলছে। এবার দোসর রাজনৈতিক টানাপড়েন। দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো নিয়ে আর্জেন্তিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সঙ্গে তাঁর ক্ষমতার লড়াই এখন সর্বজনবিদিত।

একদিকে বিশ্বকাপে রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, অন্যদিকে এফবিআইয়ের এই মানি লন্ডারিং তদন্ত। জোড়া ধাক্কায় রীতিমতো কোণঠাসা আর্জেন্তিনার ফুটবল নিয়ামক সংস্থা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মাঠের বাইরের এই কলঙ্কিত অধ্যায় মেগা টুর্নামেন্টের আবহে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।

Post a Comment

Previous Post Next Post