আগের সরকারের আমলে পুলিশে সে ভাবে নিয়োগই হয়নি। এক দিকে কর্মী–সঙ্কট, আর অন্য দিকে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। সেই চ্যালেঞ্জ সামলাতে নারী সুরক্ষায় এ বার পথে নামল ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। বাহিনীর লক্ষ্য—মানুষের মন থেকে ভয় ‘আউট’ করে পুলিশের উপরে ভরসা ‘ইন’ করানো।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, বাহিনীতে ১০ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল, কয়েকশো সাব-ইনস্পেক্টর এবং ড্রাইভারের পদ শূন্য রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে পদক্ষেপ শুরু হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই যে সেই সব শূন্যপদ পূরণ হবে না—তা ধরে নিয়েই ‘দুর্গা’দের পথে নামাল লালবাজার। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ তৈরির প্রতিশ্রুতি ছিল। তা এক ধাপ এগোল কলকাতা পুলিশের সৌজন্যে। এ বার সব জেলাতেও দুর্গা স্কোয়াড–এর পথ চলা শুরু হবে। কলকাতা পুলিশের ‘উইনার্স’ বাহিনীর মতোই স্কুটিতে ‘দুর্গা স্কোয়াড’ লেখা হয়েছে। উইনার্সের মতোই ওই স্কুটি নিয়ে মহিলা পুলিশকর্মীরা শহরে টহল দেবেন। গাড়িতেও লেখা হয়েছে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। ওই গাড়িতে হুটার লাগোনার পাশাপাশি লেখা হয়েছে ১০০ ডায়াল নম্বরও। আগে এমনই গাড়িতে ‘শক্তি’ লেখা থাকত। ওই গাড়িতে একজন মহিলা এএসআই, কনস্টেবল থাকবেন। যে কোনও সাহায্যে তাঁরা পৌঁছে যাবেন ঘটনাস্থলে।
কী ভাবে মহিলাদের ভরসা ফেরাবেন দুর্গা বাহিনীর সদস্যরা? জানা গিয়েছে, গাড়ি ও স্কুটিতে টহলের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, অফিসপাড়া থেকে শুরু করে বাজার, জনবহুল এলাকায় গিয়ে মহিলাদের তাঁরা বোঝাবেন, সমস্যায় পড়লে কী ভাবে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়। কোন নম্বরে ফোন করতে হবে। সাইবার প্রতারণা থেকে শুরু করে ডিজিটাল জালিয়াতি এবং আইনি সহায়তা সম্পর্কেও সচেতন করবেন তাঁরা। লালবাজারের এক আধিকারিকের কথায়, ‘নারী নিরাপত্তা মানে শুধু অপরাধ ঘটার পরে ব্যবস্থা নেওয়া নয়। অপরাধ যাতে না ঘটে, তার জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করবে পুলিশ।’
দুর্গা বাহিনী পথে নামলেও কর্মী–সঙ্কটের বিষয়টি অবশ্য ভাবাচ্ছে পুলিশের একাংশকে। সম্প্রতি লালবাজারের তরফে নবান্নে এ বিষয়ে একটি রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্টে ১০,৪০১ জন কনস্টেবল, ৬৭৩ জন সাব-ইনস্পেক্টর এবং ৬৬৬ জন পুলিশ ড্রাইভারের পদ পূরণের আবেদন জানানো হয়েছে। তা ছাড়া ভাঙড় ডিভিশন যুক্ত হওয়ার পরে আরও কর্মীও প্রয়োজন। দুর্গা স্কোয়াডের পাশাপাশি প্রতিটি থানায় মহিলা সহায়তা ডেস্কের কাজ ঠিক মতো হচ্ছে কি না, কেউ সাহায্য চাইতে এলে তাঁদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—তাও খতিয়ে দেখছে লালবাজার। বাহিনীর আশা, গত রাজ্য বাজেটে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে মোট ২০ হাজার নতুন নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত তা হলে বাহিনীর কাজে নিশ্চিতই আরও সুবিধা হবে।