গাইঘাটা: সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের খুনের মামলায় এ বার ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে জড়াল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। বুধবার ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে মমতার নামে বনগাঁর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন নিহতের সহযোদ্ধা নন্দদুলাল দাস। যদিও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ওই অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নামে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি নিহত বরুণের পরিবারের সদস্যরা।
উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার পাঁচপোতা গ্রামে বাড়ি ছিল কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের বাংলার শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের। এলাকার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন তিনি। বাম জমানা থেকে শুরু হয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেও গাইঘাটার সুটিয়ায় একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় সামনে থেকে প্রতিবাদ করেছিলেন বরুণ। গড়ে তুলেছিলেন ‘সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চ’। নদী সংস্কারের সরকারি টাকা নয়ছয় হওয়া নিয়ে তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। ২০১২–এর ৫ জুলাই বরুণ ট্রেন থেকে নেমেছিলেন গোবরডাঙা স্টেশনে। বাইরে বেরিয়ে মোটরবাইকে ওঠার সময়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান তিনি। বরুণের খুনে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল নিহতের পরিবার। কিন্তু গত ১৪ বছর ধরে বরুণ খুনের বিচার মেলেনি বলে পরিবারের অভিযোগ।
রাজ্যে পালাবদল হতেই নিহত বরুণের দিদি প্রমীলা বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই ওই ঘটনার নতুন করে তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন। শুভেন্দুর আশ্বাসের পরে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। মামলার নতুন করে ট্রায়ালও শুরু হয়েছে বনগাঁ আদালতে। বিশেষ সরকারি আইনজীবী দায়িত্ব নেওয়ার পরে এক জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আগামী ৩১ অগস্ট সাক্ষী দেওয়ার কথা নিহত বরুণের বাবার। এর মধ্যেই বুধবার বরুণ খুনে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পেশায় শিক্ষক নন্দদুলাল দাস অভিযোগ জানিয়েছেন বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তর কাছে।
নন্দদুলালের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কারণেই বরুণ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তদন্ত হয়নি। তাঁর এই অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে নতুন করে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বরুণ খুনের দায় সিপিএমের উপরে চাপিয়ে দিয়ে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।’ যদিও নিহত বরুণের দিদি প্রমীলা বিশ্বাস বলেন, ‘অভিযোগ করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। নন্দদুলাল দাস তাঁর মতো করে আইনি পদক্ষেপ করেছেন। উনি যেটা অভিযোগ করেছেন, সেটা তদন্তসাপেক্ষ। এ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।’
বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগে অনেক কিছু রয়েছে। তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’ কালীঘাট–তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘গোটা পৃথিবী জানে, ওই ঘটনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। ন্যায়বিচার কেউ চাইতেই পারেন। কিন্তু এই ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে দেওয়ায় ন্যায়বিচারের দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সে প্রশ্ন উঠেই যায়। কারণ, এর পিছনে যে রাজনীতি আছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।’