ভোরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া! হুড়মুড়িয়ে ভাঙল বেশ কিছু বাড়ি, উপকূলে সুনামি সতর্কতা


শনিবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে সমুদ্রের তলায়, পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহরের প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। অগভীর এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ১০–১৫ কিলোমিটার।
স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৬টার দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছু বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়ে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটে। হাসপাতাল থেকে রোগীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোথাও কোথাও চিকিৎসার ব্যবস্থা খোলা আকাশের নিচে করা হয়।
ভূমিকম্পের পর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। উপকূলবর্তী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নাজেওকো অঞ্চলে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানান্তরিত হন বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পের জেরে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল। কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়, কারণ বড় ধরনের সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তনের আশঙ্কা আর ছিল না।
হতাহতের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদনে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনও তৈরি হয়নি। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে একাধিক সক্রিয় ভূগর্ভস্থ প্লেটের সংঘর্ষের কারণে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। শনিবারের এই ভূমিকম্পের পরও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলি।

Post a Comment

Previous Post Next Post