কেশপুরকে ঘিরে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। একদিকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা, অন্যদিকে এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ—এই দুই ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরে।
কেশপুরে সভা থেকে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, এলাকার অশান্তি ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের আইনের আওতায় এনে জেলে পাঠাতে হবে। এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “ওদের জেলে দেখতে চাই।”
তবে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দেওয়া নির্দেশ ও অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, কেশপুরের উন্নয়ন নিয়েও বড় ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনার পর কেশপুরের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই অর্থে এলাকার পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নের একাধিক কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেশপুর দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্যতম রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর এলাকা। ভোটের আগে সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কেশপুরে রুটমার্চ করেছিলেন পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
ফলে উন্নয়ন বরাদ্দ এবং আইনশৃঙ্খলা—দুই ইস্যুতেই কেশপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। শুভেন্দুর কড়া বার্তার পর এখন নজর থাকবে পুলিশ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।