হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের জেলে ফিরলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শুক্রবার ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা পরীক্ষার পর তাঁকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর তরফেই এই খবর জানানো হয়েছে।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মেডিকেল বোর্ডে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও রাখার কথা বলা হয়। মূলত দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই চিকিৎসা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তায় ইমরানকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের তরফে তাঁকে শারীরিক ভাবে স্থিতিশীল বা চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত বলে জানানো হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে।
তবে ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকার এবং তাঁর দল পিটিআইয়ের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত। সরকার জানিয়েছে, বন্দিদের সাধারণত জেল বা সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, ইমরানের পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ, তাঁর স্বাস্থ্য, বিশেষত ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।
২০২৩ সালের অগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খান একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি অভিযোগ করে আসছেন, মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাকিস্তান সরকার অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সাময়িক ভাবে হাসপাতালের দরজা খুললেও আপাতত ফের আদিয়ালা জেলের বন্দিজীবনেই ফিরতে হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে। ইমরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও এর ফলে আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।