‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্কের আবহে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের জবাব দিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। শর্মিলার বক্তব্যকে ‘সীমাবদ্ধ’ এবং ‘কৃত্রিম’ বলে কটাক্ষ করে কঙ্গনা তাঁকে ‘হিন্দু-মুসলিমের মানসিকতার ঊর্ধ্বে ওঠার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’-এর কোন অংশ গাওয়া উচিত, তা নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন শর্মিলা। তাঁর বক্তব্য ছিল, গানটির প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়া যেতে পারে। কারণ, পরের অংশগুলিতে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে, যা একেশ্বরবাদী ধর্মাবলম্বীদের কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
শর্মিলার বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কঙ্গনা বলেন, একজন শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি এতটা সীমাবদ্ধ হওয়ায় তিনি বিস্মিত। তাঁর মতে, ‘বন্দে মাতরম’কে শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে গানটির ঐতিহাসিক যোগের কথা তুলে ধরে কঙ্গনা এটিকে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই দেখার পক্ষে সওয়াল করেন।
প্রসঙ্গত, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন নয়। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সম্প্রতি ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার অবস্থান জানিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই গানটির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
শর্মিলা ঠাকুরের বক্তব্য এবং কঙ্গনা রানাউতের পাল্টা মন্তব্যে সেই বিতর্কই আরও এক দফা প্রকাশ্যে এল। জাতীয় প্রতীক ও গানকে কীভাবে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মধ্যে দেখা উচিত, তা নিয়ে মতভেদও স্পষ্ট হয়ে উঠল।