কলকাতা: ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে ফের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী
শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে বাংলার 'সর্বনাশ' করেছেন মমতা। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের সঙ্গে অধুনা বিজেপি সরকারের 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র তুলনা টানেন তিনি। তাঁর দাবি, 'মমতা রাজ্য থেকে টাটাকে তাড়িয়েছেন'। 'কালীঘাট থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন অভিযুক্তদের'। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও এদিন তৃণমূলকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি, 'অন্নপূর্ণা যোজনা' নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন তিনি। জানান, বিজেপি করার জন্য যাঁরা তৃণমূল আমলে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পাননি, আর্থিক ভাবে যাঁরা দুর্বল, 'অন্নপূর্ণা যোজনা'য় তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শনিবার ভবানীপুরে 'অন্নপূর্ণা যোজনা' নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শুভেন্দু। নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রত্যেক মহিলাকে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিল বিজেপি। কিন্তু বর্তমানে 'অন্নপূর্ণা যোজনা' নিয়ে একাধিক শর্তপূরণ করতে হচ্ছে। সেই নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দিকে দিকে। এদিন সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, "আমি একটা কথা দিতে পারি, যে আশা-বরসা-স্বপ্ন নিয়ে বিজেপি-র সরকারকে এনেছিলেন আপনারা, শুধু ভাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরের ব্যাপক উন্নতির জন্য এনেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে প্রচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমাদের সরকারের বয়স এমন কিছু হয়নি। মাত্র ১০৬ দিনের সরকারের বয়স। এটা এমন কিছু সময় নয়। কিন্তু আমরা জানি যে যারা, ভোটে হেরে গিয়েছেন, কোনও দিন যারা বিজেপি-কে মনেপ্রাণে চায় না, তারা বিজেপি-র দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, ভারতীয়ত্ব এবং মোদিজীর নেতৃত্বে ভারতীয় তথা বাঙালি ও সনাতন সংস্কৃতিতে আমরা যারা বিশ্বাস করি, যেটা বাংলা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল, তারা চায় না আমরা এখানে মানুষের জন্য কাজ করি।"
মমতাকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, "আপনারা এতটুকু বিচলিত হবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ বছর এই রাজ্যের সর্বনাশ ছাড়া অন্য কিছু করেননি। টাটাকে তাড়িয়েছেন। শিল্প তাড়িয়েছেন সিঙ্গুর থেকে। ২৬০০০ চাকরি চুরি হয়েছে। দলের নেতারা চাকরি বিক্রি করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গিয়ে কালীঘাট থানায় আসামিকে লকআপ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন এবং আর জি কর থেকে কসবা ল কলেজ, অনেক ঘটনার সাক্ষী। পাবলিক সার্ভিস কমিশন, স্কুল সার্ভিস কমিশন, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং নিয়োগের সমস্ত জায়গায়গুলিতে দলীয়করণ এবং ক্যাডার বসিয়ে অন্যায় ভাবে যুবক-যুবতীদের স্বপ্ন ধ্বংস করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা বড় বড় কথা লিখছেন, বিচলিত হবেন না। মাত্র ৫০০ টাকা দিতে কতদিন লাগিয়ে দিয়েছিল ২০২১ সালে? ২০২৪ সালে লোকসভার দু'মাস আগে ওই টাকা বেড়ে ১০০০ টাকা হয়েছিল। আর বিধানসভা ভোটের তিন মাস আগে ১৫০০ হয়েছিল। বেছে বেছে বিজেপি-র কর্মী-সমর্থক এবং ২০১৯ সালে বিজেপি যেখানে যেখানে জিতেছিল, সেখানকার মহিলাদের বিগত দিনের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার...যা প্রথমে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১ কোটি ৫২ লক্ষ পেত। সেই জায়গায় আমাদের বঞ্চিত করেছে। যারা বিজেপি করার জন্য বিগত সরকারের আমলে বঞ্চিত হয়েছেন, এই সরকার তাঁদেরকে অগ্রাধিকার দেবে। যারা আর্থিক ভাবে দুর্বল তাদের অগ্রাধিকার দেবে। আমি বলে গেলাম ওই ২০ জন, ২০ জন, ৫০ জনকে জড়ো করে মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে লেকচার দিলে...শুভেন্দু অধিকারী মাথা নতন করার লোক নয়।"
বিপুল জনসমর্থনে যে ক্ষমতায় এসেছেন, তাও এদিন স্মরণ করান শুভেন্দু। বলেন, "আমি স্পষ্ট জনমত পেয়েছি, ২ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষের। জিতিয়েছি ২০৮টা সিট নিয়ে। ফলতায় ১ লক্ষ ভোটে জিতেছি। আবার নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে উপনির্বাচন। প্রমাণ হয়ে যাবে, মানুষ নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি-র সঙ্গে আছে।"