দেশে জনগণনা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। তবে এবারের জনগণনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার জনগণনায় দেশের ভিখারি বা ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা আলাদা করে নথিভুক্ত করা হবে না বলে জানা গিয়েছে।
এত দিন জনগণনার বিভিন্ন পর্যায়ে পেশা ও সামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহের সময় ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষের হিসাবও উঠে আসত। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কত মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভরশীল, তার একটি সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যেত। কিন্তু আসন্ন জনগণনায় সেই তথ্য আর সংগ্রহ করা হবে না।
কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে এই তথ্য?
সরকারের তরফে জনগণনায় তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি আরও আধুনিক ও সরল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারের জনগণনায় মূলত জনসংখ্যা, সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আবাসন, পরিবার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই বেশ কিছু পুরনো শ্রেণিবিভাগ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
ভিক্ষাবৃত্তির মতো বিষয়কে আলাদা পেশাগত শ্রেণি হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র জনগণনার মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তির প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন। কারণ অনেক মানুষ পরিস্থিতির চাপে সাময়িক ভাবে ভিক্ষা করেন, আবার অনেকে নিয়মিত ভাবে এই পেশার উপর নির্ভরশীল। ফলে একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞার মধ্যে তাঁদের সংখ্যা নির্ধারণ করাও জটিল।
আগের জনগণনায় কী তথ্য মিলেছিল?
আগের জনগণনাগুলিতে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। সেই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ সংক্রান্ত নীতি তৈরির চেষ্টা করেছে।
তবে এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে না। ফলে ভবিষ্যতে সরকারি নথিতে দেশের ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষের মোট সংখ্যা জানতে গেলে জনগণনার পরিবর্তে অন্য কোনও সমীক্ষা বা প্রশাসনিক তথ্যের উপর নির্ভর করতে হতে পারে।
বিতর্ক কোথায়?
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে। সমাজকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষের সঠিক সংখ্যা জানা না থাকলে তাঁদের জন্য পুনর্বাসন ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের পরিকল্পনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের যুক্তি, জনগণনার মূল উদ্দেশ্য দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যা ও জনতাত্ত্বিক চিত্র তুলে ধরা। প্রতিটি সামাজিক সমস্যার জন্য আলাদা করে জনগণনাকে ব্যবহার করা প্রয়োজন নেই।
ফলে আসন্ন জনগণনায় ভিক্ষাবৃত্তির তথ্য বাদ পড়া শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যানগত পরিবর্তন নয়, বরং দেশের সামাজিক নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগামী দিনে এই জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা এবং তাঁদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি জানতে সরকার অন্য কোনও সমীক্ষা বা তথ্যভান্ডার তৈরি করে কি না, এখন সেটিই দেখার।