ভারতীয় ক্রিকেটে এখন বদলের হাওয়া। গৌতম গম্ভীরয়ের কোচিংয়ে দল ক্রমশ তরুণদের দিকে তাকাচ্ছে। অন্য দিকে, ঠিক উল্টো ছবি অস্ট্রেলিয়ার। আগামী এক বছরে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট খেলতে হবে তাদের। সেই দীর্ঘ অভিযানে দলের ভরসা এখনও একঝাঁক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
আগস্ট ২০২৬ থেকে পরবর্তী ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার সামনে রয়েছে সর্বোচ্চ ২১টি টেস্ট খেলার সম্ভাবনা। বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে শুরু হবে সেই ব্যস্ত সূচি। এরপর নিউজ়িল্যান্ড, ভারত সফর, অ্যাশেজ এবং মেলবোর্নে ঐতিহাসিক ১৫০তম টেস্ট—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের জন্য অপেক্ষা করছে অত্যন্ত কঠিন সময়।
অভিজ্ঞদের প্রত্যাবর্তন
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আসন্ন দুই টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়া যে ১৩ জনের দল ঘোষণা করেছে, তাতে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড এবং নাথান লায়ন। চোটের কারণে গত এক বছরে তাঁরা নিয়মিত খেলতে পারেননি। কামিন্স ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর আর টেস্ট খেলেননি, আর হ্যাজলউডের শেষ টেস্ট ছিল ২০২৫ সালের জুলাইয়ে।
এর সঙ্গে রয়েছেন মিচেল স্টার্ক এবং স্টিভ স্মিথ। অর্থাৎ পেস আক্রমণ ও ব্যাটিং—দুই ক্ষেত্রেই অস্ট্রেলিয়া এখনও অভিজ্ঞদের উপর যথেষ্ট নির্ভরশীল।
অস্ট্রেলিয়ার এই ‘বিগ ফোর’—কামিন্স, হ্যাজলউড, স্টার্ক এবং লায়ন—গত এক বছর চোটের কারণে একসঙ্গে নিয়মিত মাঠে নামতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তারুণ্যের উপর ভারতের জোর
অন্য দিকে, ভারতীয় ক্রিকেটে প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট। রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি-র যুগের পর টেস্ট ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে। শুভমন গিল-এর মতো তরুণ ক্রিকেটারদের ঘিরেই ভবিষ্যতের দল গড়ার পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।
গম্ভীরও তরুণ দলকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের আগে তিনি দলের প্রস্তুতি এবং প্রতিটি পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি থাকার উপর জোর দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে বড় পরীক্ষা
অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল রয়েছে। ক্যামেরন গ্রিন, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস এবং বিউ ওয়েবস্টারের মতো তুলনামূলক নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা দলে জায়গা করে নিচ্ছেন। ২০২৬-২৭ মরসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও একাধিক তরুণ ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে।
তবে টেস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের চাবিকাঠি এখনও সেই অভিজ্ঞ মুখগুলির হাতেই। বিশেষ করে ২১ টেস্টের মতো দীর্ঘ সূচিতে তাঁদের ফিটনেসই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ভারত যখন রোহিত-কোহলিদের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে তরুণদের তৈরি করছে, অস্ট্রেলিয়া তখন পুরনো অভিজ্ঞতাকেই নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মিলিয়ে এগোতে চাইছে। আগামী এক বছরে দুই দলের এই ভিন্ন দর্শনের পরীক্ষা হবে মাঠেই—বিশেষ করে ভারত সফর এবং অ্যাশেজের মতো বড় মঞ্চে।