২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলায় ফের গ্রেফতারি। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা অরূপ দাসকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এই গ্রেফতারিকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালের ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন কাঁকুড়গাছি এলাকায় অভিজিৎ সরকারের মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক হিংসার জেরেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত প্রথমে কলকাতা পুলিশের হাতে থাকলেও পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই।
মামলার তদন্তে একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। সিবিআইয়ের চার্জশিট ও পরবর্তী চার্জশিটে তৎকালীন বেলেঘাটা বিধায়ক পরেশ পাল এবং কলকাতা পুরসভার তৎকালীন দুই কাউন্সিলর-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। ২০২৫ সালে সিবিআইয়ের একটি সম্পূরক চার্জশিটেও আরও ১৮ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছিল।
এই মামলায় ২০২৫ সালে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অরুণ দে-কে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তদন্তকারীদের দাবি, অরুণ দে-র সঙ্গে তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের ঘনিষ্ঠতা ছিল। যদিও কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যায় না।
এর আগে ২০২৬ সালের জুনে কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দারকেও অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলাতেও তাঁর নাম অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে বলে তদন্ত-সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন গ্রেফতারির পর অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলার তদন্ত ফের একবার রাজনৈতিক মহলের নজরে এসেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পরও মামলায় একের পর এক গ্রেফতারি হওয়ায় তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণের বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্তকারীরা কী তথ্য আদালতে পেশ করেন, সেদিকেই নজর।