ভারী বৃষ্টির জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার আকাশপথে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে প্রশাসনিক আধিকারিক, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র সবং ব্লকেই প্রায় ৩২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যায় মৃত দুই ব্যক্তির পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কেলেঘাই-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেলেঘাইয়ের জলস্তর আপাতত বিপদসীমার নীচে নেমেছে। ত্রাণশিবিরে থাকা মানুষদের পাঁচ দিনের রেশন দিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জলবন্দি বাসিন্দাদের কাছে রেশন ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশকেও প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বন্যার পাশাপাশি সাপের কামড়ের ঘটনাও সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সবং, পিংলা ও নারায়ণগড় এলাকায় সাপে কাটার ১০টি ঘটনা ঘটেছে এবং প্রত্যেক আক্রান্তকেই চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী শস্যবিমা যোজনার আওতায় আনার জন্যও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাতোকে সবংয়ে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দু’দিন তিনি এলাকায় থেকে বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজের উপর নজরদারি করবেন। দুর্গত মানুষদের বাড়ি ফেরানো এবং শস্যবিমার তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এলাকায় থাকবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
সব মিলিয়ে, বৃষ্টির জেরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতি সামলানো এবং দুর্গতদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। সবংয়ের পর হুগলির আরামবাগের বন্যা পরিস্থিতিও পরিদর্শন করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।