জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-কে ঘিরে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন অভিনেতা মুকেশ খান্না। ‘শক্তিমান’ ও ‘মহাভারত’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকের অভিনেতার দাবি, ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হওয়া উচিত নয়। তাঁর বদলে ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সঙ্গীত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুকেশ বলেন, ‘জন গণ মন’ ব্রিটিশ শাসনের সময় লেখা হয়েছিল। ‘জন গণ মন অধিনায়ক’ শব্দবন্ধের ব্যাখ্যা টেনে তাঁর দাবি, গানটির সঙ্গে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকের সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে তিনি মেনে নিতে পারেন না বলে জানান অভিনেতা।
মুকেশের মতে, ‘বন্দে মাতরম্’-এর মধ্যে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ রয়েছে। সেই কারণেই গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের এই অবস্থান নতুন নয় বলেও জানিয়েছেন ‘শক্তিমান’। প্রায় তিন বছর আগেও তিনি ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সঙ্গীত করার দাবি জানিয়েছিলেন বলে জানান।
তবে মুকেশের বক্তব্যের ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ‘জন গণ মন’ রানি এলিজাবেথের প্রশস্তি হিসেবে লেখা হয়েছিল—এমন তাঁর পুরনো দাবিকে ঘিরে সমালোচনা হয়েছে। কারণ ‘জন গণ মন’ প্রথম গাওয়া হয় ১৯১১ সালে, আর রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয়ের জন্ম ১৯২৬ সালে। ফলে ওই দাবির সঙ্গে সময়ের অসঙ্গতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে একাধিক প্রতিবেদন।
জাতীয় সঙ্গীত বদলের দাবি ঘিরে তাই ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। একদিকে মুকেশ খান্না নিজের বক্তব্যে অনড় থাকার কথা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর মন্তব্যের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকদের একাংশ। ফলে ‘জন গণ মন’ বনাম ‘বন্দে মাতরম্’ বিতর্কে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।