ক্ষমা চাইবেন কে, রাহুল না শাহ? দিল্লি ও রাঁচীতে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি ‘অত্যাচার’ নিয়ে সংসদ চত্বরে শাসক-বিরোধী স্লোগানযুদ্ধ


পড়ুয়াদের আন্দোলন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে JPSC-JSSC পরীক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা নিয়েও সরব হয়েছে বিরোধীরা। এই ইস্যুতেই সংসদ চত্বরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।
কংগ্রেসের অভিযোগ, পড়ুয়াদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্র। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র ভূমিকা নিয়ে। তাঁর দাবি, দিল্লিতে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের সময় পুলিশ কীভাবে বলপ্রয়োগ করল, তা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এমনকি শাহকে পদ থেকে সরানোর দাবিও তুলেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সংসদে একাধিক দাবি সামনে এসেছে। পড়ুয়াদের উপর কথিত দমন-পীড়নের তদন্ত এবং দায় নির্ধারণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছে বিরোধী দল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ক্ষমা চাইবেন কে, রাহুল গান্ধী, নাকি কেন্দ্রের তরফে অমিত শাহ?
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। JPSC ও JSSC-র নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বহু পরীক্ষার্থী আন্দোলনে নামেন। বিধানসভার দিকে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পুলিশকর্মীদেরও আহত হওয়ার খবর রয়েছে।
রাঁচীর ঘটনার পর ঝাড়খণ্ডেও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে শুরু করেছে। পড়ুয়াদের উপর পুলিশি ব্যবহারের প্রতিবাদে বিজেপি ১১ অগস্ট রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দিয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্তের দাবিও জোরালো হয়েছে।
এই দুই ঘটনাকে সামনে রেখে বিরোধীদের বক্তব্য, চাকরি ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আন্দোলনরত তরুণদের সঙ্গে আলোচনার বদলে পুলিশি পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে উদ্বেগজনক। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাঁচীতে পুলিশ দাবি করেছে, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ কোনও আলোচনায় রাজি ছিল না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়েছিল।
ফলে পড়ুয়াদের আন্দোলন এখন শুধুমাত্র শিক্ষা বা নিয়োগ-সংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দিল্লি থেকে রাঁচী—পুলিশের ভূমিকা, সরকারের জবাবদিহি এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে। সংসদ চত্বরে স্লোগানযুদ্ধ সেই সংঘাতকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এখন নজর, সরকার এই অভিযোগের কী জবাব দেয় এবং পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতার রাস্তা খোলে কি না।

Post a Comment

Previous Post Next Post