ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে সোমালিয়ার জলদস্যুদের আতঙ্ক। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলের কাছে পৃথক দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। দুই জাহাজে মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাগুলি ঘিরে ‘আফ্রিকার শিঙে’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ইয়েমেনের উপকূলের কাছে গালফ অব এডেনে। ছ’জন সশস্ত্র জলদস্যু ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ M.T. Sibu 1-এ উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে খবর। জাহাজটিতে মোট ২০ জন কর্মী ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই ১৬ ভারতীয়-সহ জাহাজের কর্মীরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলের কাছে। সেখানে M/V LUTUF নামে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি দখলে নেয় জলদস্যুরা। ওই জাহাজে ছ’জন ভারতীয় কর্মী ছিলেন। তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে এবং সর্বশেষ অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করছে।
একসঙ্গে দুই জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গালফ অব এডেন ও সোমালিয়া সংলগ্ন সমুদ্রপথে জলদস্যুদের তৎপরতা ফের বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরেও সোমালিয়ার উপকূলে একাধিক জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিল-মে মাসে পরপর কয়েকটি জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে জলদস্যুতা ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মধ্যবর্তী গালফ অব এডেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
দুই জাহাজের ঘটনায় ২২ জন ভারতীয়ের নাম উঠে আসায় তাঁদের নিরাপত্তা ও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। জলদস্যুদের এই সাম্প্রতিক তৎপরতা কতটা বড় আকার নেয়, সেটাই এখন দেখার।