আইনের ফাঁক গলে ফের আমেরিকার কুর্সিতে ট্রাম্প, বৃহত্তর এক যুদ্ধ! ভয়ঙ্কর তিন ভবিষ্যদ্বাণী করলেন ‘চিনা নস্ত্রাদামুস’


আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে তৃতীয় বার ডোনাল্ড ট্রাম্প? মার্কিন সংবিধানের নিয়ম বলছে, তা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভাবনার জায়গায় এনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন চিনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় শিক্ষাবিদ জিয়াং শুয়েচিন। সমাজমাধ্যমে যিনি ‘চিনা নস্ত্রাদামুস’ নামে পরিচিত। তাঁর দাবি, কোনও না কোনও সাংবিধানিক পথ ব্যবহার করে ২০২৮ সালের পরেও হোয়াইট হাউসে ফিরতে পারেন ট্রাম্প। তবে এই তত্ত্ব এখনও আইনি ভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন না। ট্রাম্প ২০১৬ সালে প্রথম বার এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে ২০২৮ সালে তৃতীয় বার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ তাঁর নেই। সম্প্রতি ট্রাম্প নিজেও তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বীকার করেছেন যে, এ ক্ষেত্রে ‘‘আইন খুবই শক্ত’’।
তবে জিয়াংয়ের বক্তব্য, সংবিধানের একটি বিতর্কিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে ভিন্ন রাস্তা তৈরি হতে পারে। তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, ট্রাম্প সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে না লড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। পরে কোনও পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট পদটি শূন্য হলে উত্তরাধিকারের নিয়মে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে পারেন। যদিও ১২তম এবং ২২তম সংশোধনীর পারস্পরিক ব্যাখ্যা নিয়ে সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে এবং এমন কোনও পথ বাস্তবে পরীক্ষিত হয়নি। তাই এটিকে নিশ্চিত ‘আইনের ফাঁক’ না বলে একটি বিতর্কিত সাংবিধানিক তত্ত্ব হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
জিয়াংয়ের সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে আরও দু’টি বড় পূর্বাভাস। তাঁর দাবি, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেই যুদ্ধে আমেরিকার পরাজয় ঘটতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালে তিনি তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় আসবেন, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবেন এবং সেই যুদ্ধে আমেরিকা পরাজিত হবে। প্রথম দু’টি ঘটনা মিলে যাওয়ার দাবি ঘিরেই সমাজমাধ্যমে তাঁকে ‘চিনা নস্ত্রাদামুস’ বলা শুরু হয়েছে।
তাঁর তৃতীয় পূর্বাভাস নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি জল্পনা। তবে বিশেষজ্ঞ মহলে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর বৈজ্ঞানিক বা নির্ভরযোগ্য ভিত্তি রয়েছে—এমন কোনও প্রমাণ নেই। ফলে জিয়াংয়ের বক্তব্যকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে না দেখে তাঁর ব্যক্তিগত ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অনুমান হিসাবেই দেখা উচিত।
ট্রাম্পের ২০২৮ নিয়ে মন্তব্য এবং জিয়াংয়ের তত্ত্ব—দুইয়ে মিলে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে তৃতীয় মেয়াদ প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। তবে আপাতত সংবিধানের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ট্রাম্পের সরাসরি তৃতীয় বার নির্বাচনে লড়ার পথ বন্ধই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ‘চিনা নস্ত্রাদামুস’-এর ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে কতটা মেলে, তার উত্তর দেবে সময়ই।

Post a Comment

Previous Post Next Post