মুনিরকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পাক প্রধানমন্ত্রী শরিফ! শুক্রে সই ত্রিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি, নিশানায় কি ভারত?


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পশ্চিম এশিয়া সফরে গিয়ে দেশের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সঙ্গে নেওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করা।
সূত্রের খবর, শুক্রবার পাকিস্তান পশ্চিম এশিয়ার দুই দেশের সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খুঁটিনাটি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ সামরিক মহড়া এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো বিষয়গুলি এতে গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিছক কূটনৈতিক নয়, বরং এর স্পষ্ট কৌশলগত তাৎপর্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে পাকিস্তানের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা ও বিদেশনীতি কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ত্রিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলের উপর কতটা পড়তে পারে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পাকিস্তান বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পক্ষ থেকে কোথাও সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবুও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভবিষ্যতে ভারতের জন্য নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও সামরিক চুক্তির উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে তার আনুষ্ঠানিক নথি ও বাস্তব প্রয়োগের দিকগুলি খতিয়ে দেখা জরুরি। ফলে এই মুহূর্তে চুক্তিটি সরাসরি ভারতকে লক্ষ্য করেই হচ্ছে—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করা সম্ভব নয়।
এখন নজর শুক্রবারের বৈঠক ও সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে। সেই বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে পাকিস্তানের এই নতুন সামরিক উদ্যোগের প্রকৃত লক্ষ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে চলেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post