‘বন্দে মাতরম্’কে ঘিরে ২০২৬ সালে নতুন করে একাধিক সরকারি নির্দেশিকা সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শিষ্টাচার ও নিয়ম মানতে হবে। স্কুলগুলিতেও এই গান সমবেত ভাবে গাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭টি নিয়ম হল—
১. দিনের শুরুতে সমবেত গান
স্কুলে দিনের কাজ শুরু করার আগে ছাত্রছাত্রীদের সমবেত ভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে গানটির পাশাপাশি জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তোলার উপরেও জোর দিতে বলা হয়েছে।
২. গাইতে হবে সরকারি স্বীকৃত পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ
নির্দেশিকায় ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয়টি স্তবক-সহ সরকারি স্বীকৃত পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। সম্পূর্ণ সংস্করণটির পরিবেশনের সময় প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
৩. গান চলাকালীন সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে
‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বা বাজানোর সময় উপস্থিত শ্রোতা ও ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার নিয়ম রয়েছে। তবে সিনেমা, নিউজরিল বা তথ্যচিত্রের অংশ হিসেবে গানটি বাজলে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
৪. জাতীয় সংগীতের সঙ্গে হলে ‘বন্দে মাতরম্’ আগে
একই অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ এবং ‘জন গণ মন’ দু’টিই পরিবেশিত হলে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এবং তার পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের নির্দেশ রয়েছে।
৫. পরিবেশনের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, চলাফেরা বা এমন কোনও আচরণ করা যাবে না যাতে পরিবেশনের মর্যাদা নষ্ট হয়। সমবেত পরিবেশনে সবাইকে যথাযথ সম্মান ও শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে।
৬. স্কুলে নিয়মিত অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে
স্কুল কর্তৃপক্ষকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় সংগীত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং নিয়মিত সমবেত গানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় প্রতীক ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে শ্রদ্ধাবোধ তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৭. অনুষ্ঠানের নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট ক্রম বজায় রাখতে হবে
আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সরকারি সংস্করণ ও নির্ধারিত পরিবেশন-পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ব্যান্ডের মাধ্যমে পরিবেশনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সূচনা-পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে।
সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম্’-এর মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা নিয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। ১১ অগস্ট ২০২৬ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়া সংশোধনী আইনের মাধ্যমে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় সংগীতের আইনি সুরক্ষার সমতা আনার কথা জানানো হয়েছে। ফলে গানটির পরিবেশনের সময় সম্মান ও শিষ্টাচার বজায় রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।