‘ভারত ফাঁস করেনি’! তার পরেও পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির তথ্য কী ভাবে পেলেন ট্রাম্প? প্রশ্ন সেনার প্রাক্তন শীর্ষকর্তার


‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি কী ভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। প্রাক্তন সেনাপ্রধান তথা প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান জানিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত সরাসরি দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও)-এর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই হয়েছিল। তৃতীয় কোনও পক্ষের ভূমিকা তিনি দেখেন না।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের সংঘাতের অবসান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার দাবি করেছিলেন যে, তাঁর হস্তক্ষেপেই দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে পৌঁছেছিল। পাকিস্তানও ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। কিন্তু ভারত বরাবরই সেই দাবি অস্বীকার করে এসেছে। ভারতীয় অবস্থান ছিল, দুই দেশের সামরিক কর্তাদের নির্ধারিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেই গুলি চালানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠছে—যদি ভারত সংঘর্ষবিরতির তথ্য আমেরিকাকে সরাসরি না দিয়ে থাকে, তা হলে ট্রাম্প এত দ্রুত বিষয়টি জানলেন কী ভাবে? জেনারেল চৌহানের বক্তব্য সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তাঁর মতে, সিদ্ধান্তটি দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যেই হয়েছিল। ফলে মার্কিন প্রশাসন অন্য কোনও কূটনৈতিক বা সরকারি সূত্রের মাধ্যমে খবরটি পেয়েছিল কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সময় অবশ্য মার্কিন প্রশাসন ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে একাধিক স্তরে যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়েছিল। মার্কিন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়োও দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছিলেন। তবে ভারতীয় কর্তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন, সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্তটি দ্বিপাক্ষিক সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমেই হয়েছে।
ফলে প্রাক্তন সিডিএসের সাম্প্রতিক মন্তব্যে পুরনো বিতর্কই নতুন করে সামনে এসেছে। সংঘর্ষবিরতির খবর ট্রাম্পের কাছে ঠিক কোন সূত্রে পৌঁছেছিল, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও প্রকাশ্যে মেলেনি। তবে ভারতের প্রাক্তন শীর্ষ সামরিক কর্তার বক্তব্য অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে—নয়াদিল্লির দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষবিরতির মূল সিদ্ধান্তে তৃতীয় কোনও পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না।

Post a Comment

Previous Post Next Post