কিষেনজির নকশাতেই জঙ্গল-যুদ্ধে মাও নেতা! আকাশের সন্ধানে পোস্টার পুলিশের


নিজস্ব সংবাদদাতা: জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনে যখন নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ছে, তখন ফের সামনে এল এক মাওবাদী নেতার নাম। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল-যুদ্ধের কৌশল রপ্ত করে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন ওই নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা ও মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, প্রয়াত মাওবাদী নেতা কিষেনজির সময়কার জঙ্গল-যুদ্ধের কৌশল এবং সাংগঠনিক নকশাকেই নতুন করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন ওই মাওবাদী নেতা। দুর্গম জঙ্গল, পাহাড়ি এলাকা এবং গ্রামাঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলাই তাঁদের অন্যতম কৌশল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ইতিমধ্যেই ওই নেতার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ছবি-সহ পোস্টার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জঙ্গল লাগোয়া এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লেও বিচ্ছিন্ন ভাবে কয়েকজন নেতা এখনও সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁদের গতিবিধি এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্কের উপর নজর রাখা হচ্ছে। জঙ্গলকে ঘাঁটি করে নতুন করে সংগঠন বিস্তারের কোনও চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কিষেনজির নেতৃত্বে একসময় জঙ্গলমহল-সহ দেশের একাধিক জঙ্গলাঞ্চলে মাওবাদীদের সক্রিয়তা তীব্র হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর সংগঠনের সেই শক্তি অনেকটাই কমে আসে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর আশঙ্কা, পুরনো কৌশল অনুসরণ করে নতুন নেতৃত্ব ফের সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত মাওবাদী নেতার সন্ধানে জোরদার হয়েছে পুলিশি অভিযান। তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখছেন এবং কোথা থেকে সংগঠনের জন্য অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা আসছে, সেই সূত্রও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এখনও পর্যন্ত ওই নেতার অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

Post a Comment

Previous Post Next Post