"আমার ৪৭ বছরের সঙ্গী.... চিরতরে ছেড়ে চলে গেলেন", শোকে পাথর 'মা মাসি কিচেন'-এর দিদিমা, কে আর আবদার করে রান্না করতে বলবেন তাঁকে?


সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য সবসময় ঝাঁ চকচকে আয়োজন কিংবা পেশাদার সেটআপের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও একেবারে ঘরোয়া জীবনের টুকরো ছবিই মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেয়। জ্যোতিপ্রসাদ বসু এবং শিউলি বসুর ‘মা-মাসি কিচেন’ ছিল তেমনই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। রান্নার ভিডিয়োর আড়ালে এই বৃদ্ধ দম্পতির সহজ সম্পর্ক, খুনসুটি এবং পারস্পরিক ভালোবাসাই হয়ে উঠেছিল তাঁদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ। সেই পরিচিত জুটির এবার বিচ্ছেদ ঘটল চিরতরে। প্রয়াত ‘মা-মাসি কিচেন’-এর প্রিয় দাদু, জ্যোতিপ্রসাদ বসু।
রবিবার সকালে তাঁদের পেজ থেকেই এই খবর প্রকাশ্যে আসে। জানা গিয়েছে, গত ১৩ অগস্ট মৃত্যু হয়েছে জ্যোতিপ্রসাদবাবুর। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরেই সিওপিডি-তে আক্রান্ত ছিলেন জ্যোতিপ্রসাদবাবু। তবে অসুস্থতার মধ্যেও তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছাপ থাকত ভিডিওগুলিতে। ‘মা-মাসি কিচেন’-এর জনপ্রিয়তার পিছনে তাই শুধু খাবার ছিল না, ছিল একটা পরিবারের অনুভূতি।
নিউ টাউনের সাধারণ একটি মধ্যবিত্ত বাড়ি থেকেই চলত তাঁদের এই পথচলা। ছোট্ট রান্নাঘর, ঘরোয়া উপকরণ আর পরিচিত বাঙালি রান্না—এই ছিল ‘মা-মাসি কিচেন’-এর মূল আকর্ষণ। সেখানে কোনও কৃত্রিমতা ছিল না। ছিল না তারকাখচিত আয়োজন কিংবা অত্যাধুনিক রান্নাঘরের প্রদর্শন। ভিডিয়োগুলিতে প্রায়ই দেখা যেত, জ্যোতিপ্রসাদবাবু স্ত্রীর কাছে নিজের পছন্দের কোনও রান্নার আবদার করছেন। শিউলিদেবীও স্বামীর সেই আবদার মেটাতে যত্ন করে রান্না করতেন। রান্নার পদ্ধতি দেখানোর পাশাপাশি খাবার পরিবেশন করতেন আপনজনের মতো করে।

তবে গত কয়েকদিন ধরে পেজে নতুন ভিডিও না আসায় অনুরাগীদের একাংশের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। রবিবারের পোস্টেই মিলল সেই প্রশ্নের উত্তর। জানা গিয়েছে, গত ৭ অগস্ট আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় জ্যোতিপ্রসাদবাবুর। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কয়েকদিন চলেছিল লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৩ অগস্ট মৃত্যু হয় তাঁর।


Post a Comment

Previous Post Next Post