দিঘায় বিচ ফেস্টিভ্যাল, পুজো ঘিরে জেলায় জেলায় মেগা শো-এর প্রস্তুতি



মহালয়ার বিকেলে প্রথমে রেড রোডে রোড শো। তার পর ইডেন উদ্যানে মেগা শো। সেখানেই মা-দুর্গার চোখে এঁকে এবারের শারদোৎসবের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পড়ে যাবে উৎসবের ঢাকে কাঠি। তবে শুধু কলকাতাতেই নয়। দুর্গাপুজো উপলক্ষে এবার জেলায় জেলায় অনুষ্ঠান। সব থেকে বড় অনুষ্ঠান দিঘায়। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় দিঘায় বিচ ফেস্টিভ্যাল হবে। যা এ বাংলা আগে কখনও দেখেনি। নিউ দিঘা ওয়াচ টাওয়ারের কাছে এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসার জায়গা করা হচ্ছে। আপাতত ঠিক আছে মঞ্চ মাতাবেন মোনালি ঠাকুর থেকে মধুশ্রী, অন্তরা মিত্র, উজ্জয়নী, জুন-সহ বহু নামী শিল্পী। উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও। তবে শুধু দিঘাই নয়। পুজোর মধ্যেই দু’দিন করে মোট ১০ দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে পাঁচ জেলায়। বাঁকুড়ায় বিষ্ণুপুর, নন্দীগ্রাম, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর এবং বহরমপুরে মঞ্চ মাতাবেন নামী শিল্পীরা। সেই তালিকায় রয়েছেন, কুমার শানু, শান, মোনালি ঠাকুর থেকে অভিজিতের মতো শিল্পীরা।
নবান্নের এক কর্তার কথায়, আসলে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম দুর্গাপুজো। তাই এই পুজোকে বিশ্বের মানচিত্রে একেবারে অন্য মাত্রায় তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর শুভেন্দুর সরকার। সেই মতোই করা হয়েছে আয়োজন। তবে সেই আয়োজন যাতে শুধু কলকাতাতেই আটকে না থাকে, সে কারণেই জেলায় জেলায় মেগা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা ছাড়াও পঞ্চমীর দিন দিঘায় থাকছে একেবারে অন্যরকম এক অনুষ্ঠান। দিঘায় হবে ‘অন্নপূর্ণা রান্নাঘর’ ও ‘মহাভোগ’ কর্মসূচি। যেখানে গোটা রাজ্য থেকে কয়েক হাজার অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা প্রাপকরা যোগ দেবেন দেবী দুর্গার মহাভোগ প্রস্তুতি অনুষ্ঠানে। এখান থেকেই মহাভোগ ছড়িয়ে পড়বে গোটা রাজ্যে।
নারীশক্তির প্রতীক হিসাবে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে রাজ্যের ভৌগোলিক মানচিত্র ফুটিয়েও তুলবেন তাঁরা। পাশাপাশি রেড রোডের রোড শো-তে ২৩টি জেলার স্থানীয় সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে স্থান দেওয়া হচ্ছে। দার্জিলিঙের তামাং সেলো থেকে শুরু করে কালিম্পঙের লেপচা নাচ, জলপাইগুড়ির, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজবংশী লোকনৃত্যও পরিবেশিত হবে। এ ছাড়াও মালদহের গম্ভীরা, বীরভূমের বাউল, পূর্ব বর্ধমানের রাইবেশে, পশ্চিম বর্ধমানের সাঁওতালি নাচ, নদিয়ার গৌড়ীয় বৈষ্ণব নাচ, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার ছৌ পরিবেশিত হবে। ঝাড়গ্রামের সাঁওতালি নাচ, পূর্ব মেদিনীপুরের পটুয়ার গান, হুগলির রামপ্রসাদী, হাওড়ার লোকনাট্য, উত্তর ২৪ পরগনার বনবিবি পালা-সহ সব জেলার নানা অনুষ্ঠান হবে। নবান্নের এক কর্তার কথায়, এবারের শারোদৎসব রাজ্যবাসীকে একেবারে তাক লাগিয়ে দেবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post