সেকেন্দরাবাদ: এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেকেন্দরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের মাদ্রাজ রেজিমেন্টের অস্ত্রাগার থেকে চুরি যাওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের এখনও কোনও হদিস মেলেনি। ফলে যত সময় গড়াচ্ছে, ততই জটিল হচ্ছে তদন্ত। ঘটনায় সেনার অভ্যন্তরীণ কারও যোগ ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গত ৩০ অগস্ট রাতে বোলারামের ওই সামরিক এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পরের দিন সকালে অস্ত্রাগার খোলার সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে একাধিক অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ নিখোঁজ হওয়ার কথা সামনে আসে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কী ভাবে অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র বাইরে চলে গেল। পুলিশ ও সেনা আধিকারিকরা অস্ত্রাগারে যাঁদের প্রবেশাধিকার ছিল, তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক তদন্তে ‘ইনসাইড জব’-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
ঘটনার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে চুরির বিষয়টি নজরে আসেনি বলে নিরাপত্তারক্ষীদের একাংশ দাবি করেছেন। আবার তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, অস্ত্রগুলি একবারে নয়, ধাপে ধাপে সরানো হয়ে থাকতে পারে। ফলে কবে থেকে চুরি শুরু হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ দিকে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। অস্ত্রাগারের রেকর্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন সেনা আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে খবর।
সব মিলিয়ে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটির ভিতর থেকে অস্ত্র চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এবং ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি।