বালেশ্বর: ওড়িশার বালেশ্বরের জঙ্গলে পাঁচটি ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ভোগরাই এলাকার বাডাপাহি গ্রামের কাছে জঙ্গলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে ওই পাঁচটি প্রাণী। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচ ওরাংওটাংকে উদ্ধার করেন।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ওরাংওটাংই আকারে ছোট। তাদের বয়স আনুমানিক কম বলে মনে করা হচ্ছে। বালেশ্বরের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার জানিয়েছেন, পাঁচটির মধ্যে চারটি আপাতত সুস্থ রয়েছে এবং খাবার ও ওআরএস গ্রহণ করছে। পশুচিকিৎসকদের একটি দল তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করছে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার নির্দিষ্ট অঞ্চলের অরণ্যে স্বাভাবিক ভাবে বসবাসকারী এই প্রাণীগুলি বালেশ্বরের জঙ্গলে এল কী ভাবে? ওরাংওটাং ভারতের বন্য পরিবেশের স্থানীয় প্রাণী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বালেশ্বরের জঙ্গলের সঙ্গে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের কোনও সংযোগও নেই। ফলে স্বাভাবিক ভাবে এত দূর তাদের চলে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
এই কারণেই ঘটনাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। বন দফতর তদন্ত শুরু করেছে—কোথা থেকে প্রাণীগুলিকে আনা হয়েছিল, কী ভাবে তারা ভারতে পৌঁছল এবং শেষ পর্যন্ত কী ভাবে বালেশ্বরের জঙ্গলে এল, তা জানার চেষ্টা চলছে। রাজ্য সরকারও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর (WCCB) তদন্তের কথা জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ওরাংওটাংগুলিকে আপাতত নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য ও শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হবে।
ওরাংওটাং এশিয়ার একমাত্র গ্রেট এপ এবং মূলত বোর্নিও ও সুমাত্রার রেইনফরেস্টে পাওয়া যায়। তিনটি স্বীকৃত প্রজাতিই বর্তমানে অত্যন্ত বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। ফলে বালেশ্বরের জঙ্গলে একসঙ্গে পাঁচটি ওরাংওটাংয়ের উপস্থিতি শুধু বিস্ময়কর নয়, এর নেপথ্যে কোনও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের যোগ রয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন।