সিবিএসই নতুন চেয়ারম্যান মানদীপ কে ভান্ডারি, সিলমোহর দিল কেন্দ্র, কী পরিচয় নয়া পদাধিকারির?


কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ বা সিবিএসই-র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মানদীপ কে ভান্ডারির নিয়োগে সিলমোহর দিল কেন্দ্র। শুক্রবার জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি (এপয়েন্টমেন্টস কমিটি অফ দ্য ক্যাবিনেট) মানদীপ ভান্ডারির নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে সিবিএসই-র শীর্ষ পদে নতুন দায়িত্ব পেলেন ২০০১ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক।
গত কয়েক মাসে সিবিএসই-র পরীক্ষা এবং ফলপ্রকাশ-পরবর্তী বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। বিশেষ করে অন-স্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম ব্যবস্থা নিয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। উত্তরপত্র সংক্রান্ত গরমিল, পোর্টালের প্রযুক্তিগত সমস্যা, অর্থপ্রদানে ব্যর্থতা, যাচাই এবং পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দেরি—এমন একাধিক বিষয় নিয়ে বোর্ডের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত ২ জুন সিবিএসই-র চেয়ারম্যান রাহুল সিংহ এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়। এরপর বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মানদীপ কে ভান্ডারির নাম সামনে আসে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের পর তাঁর নিয়োগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হল।
কে এই মানদীপ কে ভান্ডারি?
মানদীপ কে ভান্ডারি এজিএমইউটি ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। কর্মজীবনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রায় ১০টি পদে ১০টি ভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন এই আধিকারিক।
বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মানদীপ ভান্ডারি। প্রশাসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও তাঁর শিক্ষাগত যোগসূত্র রয়েছে। পেশায় চিকিৎসক মানদীপ পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, চণ্ডীগড় এবং দয়ানন্দ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার সময় স্বর্ণপদকও পেয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে সিবিএসই-র মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হল। নতুন চেয়ারম্যানের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বোর্ডের পরীক্ষা, মূল্যায়ন, ফলপ্রকাশ এবং ফলপ্রকাশ-পরবর্তী পরিষেবাগুলিকে আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করা।
বিশেষ করে ওএসএম ব্যবস্থা, উত্তরপত্র যাচাই, পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো নিয়ে যে অভিযোগগুলি গত কয়েক মাসে সামনে এসেছে, সেগুলির দিকে নতুন চেয়ারম্যান কী ভাবে নজর দেন, তা নিয়ে নজর থাকবে পড়ুয়া, অভিভাবক এবং শিক্ষা মহলের।

Post a Comment

Previous Post Next Post