খুব শিগগিরই যাদবপুরে গীতা এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা মাওবাদী নেতা কিষেণজিকে রেড স্যালুট জানাচ্ছেন অথবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’র স্লোগান তুলছেন, তাঁদের শিকড়–সহ উৎখাত করাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
গত ১৯ অগস্ট মাঝরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র–সংঘর্ষের ঘটনার পরে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে। সম্প্রতি সে কথা তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন। সেই বার্তা আরও স্পষ্ট ভাবে দিতে গত ২৮ অগস্ট যাদবপুরে এইট–বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দেমাতরম’ কর্মসূচি পালিত হয়। যেখানে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও। বুধবার ফের তাঁকে গেরুয়া ধ্বজা হাতে হাঁটতে দেখা যায় যাদবপুরে।
গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত মিছিলে অংশ নেন তিনি। কর্মসূচির নাম— ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’। মিছিলে সাধারণ মানুষ ছাড়া সাধু–সন্তদেরও হাঁটতে দেখা যায়। মিছিল শেষে যাদবপুরে এইট–বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গেরুয়ার অপমান আমরা সহ্য করব না। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম এখানে এসে।’ তাঁর হুঙ্কার, ‘আধ্যাত্মিক জাগরণের এই পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া নিয়ে অপশব্দ বলা বা লেখার ক্ষেত্রে এরপরে পাঁচ বার ভাবতে হবে।’
১৮ অগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র–সংঘর্ষের পরে এ নিয়ে দু’বার ক্যাম্পাসের বাইরে অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সভা করলেন শুভেন্দু। দু’বারই তাঁর আক্রমণের নিশানায় ছিল বাম এবং অতি বাম শিবির। ক্যাম্পাসের ভিতরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত যে শুভেন্দু দম ফেলবেন না, সেটা এ দিন তিনি আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যাক টু ব্যাক তিনি আরও দু’বার যাদবপুরে আসতে চলেছেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে কিছুদিনের মধ্যেই আমি দু’বার যাদবপুরে আসব।’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘যারা দেশের ভিতর থেকে দেশকে এবং গেরুয়াকে অপমান করছে, তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার গীতা পাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চালিশা পাঠ করতে আসব।’
যাদবপুরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করার প্রশ্নে শুভেন্দু অবশ্য আশাবাদী। ‘দেশ বিরোধী’ শক্তির মোকাবিলা কী ভাবে করতে হয়, সেটাও তাঁর জানা বলে এ দিন ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ শেষে যাদবপুরে দাবি করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি, প্যালেস্তাইন ফ্রি করো, কিষেণজি রেড স্যালুট— এ সব স্লোগান যারা তুলছে, তাদের কী করে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সেটা জানেন। শিকড়–সহ উৎখাত করব ওদের।’
তাঁর এই ‘উৎখাত’–এর ডাক যে নিছক কথার কথা নয়, সেটাও এ দিনের সভা থেকে পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ইঙ্গিত, তিনি যেটা পণ করেন, সেটা করেই ছাড়েন। সে প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘২০১১–তে আমি পণ করেছিলাম কমিউনিস্টদের সরাব, সরিয়েছি। আমি পণ করেছিলাম, ২০২৬–এ মোদীজির নেতৃত্বে জামাতি সরকারকে সরাব, সেটাও সরিয়েছি। আপনারা সাপোর্ট করুন, সঙ্গে থাকুন। এটা বিবেকানন্দর মাটি। এখানে গেরুয়াই হবে।’