লন্ডন: চোটের কারণে ম্যাচে ব্যাট করতে নামেননি পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হক। কিন্তু সেই চোট নিয়েই উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে পায়ের পেশিতে টান ধরার কথা জানিয়ে দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে নামেননি তিনি। পরে মাঠে তাঁকে অনুশীলন করতে দেখা যাওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কঠিন পিচে খেলতে না চেয়েই ফের চোটের অজুহাত দিয়েছেন ইমাম।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ইমাম জানান, তাঁর পায়ের পেশিতে সমস্যা হয়েছে। সেই কারণে পাকিস্তানের হয়ে কোনও ইনিংসেই ব্যাট করতে নামেননি তিনি। তবে টেস্টের চতুর্থ দিনে তাঁকে মাঠে অনুশীলন করতে দেখা যায়। পায়ে টেপ বাঁধা থাকলেও স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটাচলা করতে দেখা যায় তাঁকে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ব্রডও।
তবে ইমামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত আরও পুরনো। ২০২৫ সালের মার্চে নিউ জ়িল্যান্ড সফরে একটি এক দিনের ম্যাচের আগে নেটে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার দাবি করেছিলেন তিনি। স্ক্যান পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য চোট ধরা পড়েনি। কিন্তু পরে তাঁর গোড়ালিতে কালশিটের মতো নীল দাগ দেখা যায়। সেই সময় চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে নাকি জানতে পারেন, দাগটি স্বাভাবিক চোটের কারণে নয়, পেনের কালি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল—এমনই অভিযোগ সামনে আসে।
ঘটনাটি নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠেছিল। চিকিৎসকদের সামনে ইমামকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গেলেও পরে তাঁকে ইফতারের নিমন্ত্রণে প্রায় ৫০০ মিটার হাঁটতে দেখা গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই ঘটনায় তাঁকে শাস্তি দেওয়ার দাবিও উঠেছিল।
এ বার লর্ডসের ঘটনায় সেই পুরনো বিতর্কই ফের সামনে এসেছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক মহম্মদ ওয়াসিমের দাবি, কঠিন পিচে খেলার পরিস্থিতি তৈরি হলেই ইমামের চোটের অজুহাত দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ২০২২ সালে মুলতানে একটি টেস্টের আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও বর্তমান ঘটনায় ইমামের চোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানকে একজন ব্যাটার কম নিয়ে খেলতে হয়েছে। ফলে দলের ব্যাটিং শক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে মাঠে অনুশীলন করার ছবি ও ম্যাচে ব্যাট করতে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইমাম।
চোট সত্যিই কতটা গুরুতর ছিল, নাকি কঠিন পিচের কারণে মাঠে নামতে অনীহা—তা নিয়ে এখন জোর বিতর্ক। তবে ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত কী, তা স্পষ্ট করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যের দিকেই নজর ক্রিকেটমহলের।