উত্তরপ্রদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভল্টে সাড়ে সাত কোটির জাল নোট! গরমিল ধরা পড়তেই নিলম্বিত চার ব্যাঙ্ককর্তা


সাহারানপুর: সাধারণ মানুষের টাকা যেখানে সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টেই মিলল কোটি কোটি টাকার জাল নোট! উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের একটি কারেন্সি চেস্ট থেকে প্রায় ৭.৪০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই চার ব্যাঙ্ককর্তাকে নিলম্বিত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, অগস্টের ১০-১১ তারিখ নাগাদ রিজার্ভ ব্যাঙ্কে পাঠানোর জন্য রাখা নগদের হিসাব মেলাতে গিয়ে প্রথমে প্রায় ৪.৩৬ লক্ষ টাকার গরমিল ধরা পড়ে। সেই ঘাটতির কারণ খুঁজতে গিয়ে ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ অডিটে আরও বড়সড় অসঙ্গতি সামনে আসে। কারেন্সি চেস্টে থাকা নোট পরীক্ষা করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল নোটের সন্ধান মেলে।
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলি এখনও বাজারে ছাড়া হয়নি এবং অন্য কোনও শাখাতেও পাঠানো হয়নি। তবে এত বিপুল পরিমাণ জাল নোট কী ভাবে ব্যাঙ্কের ভল্টে পৌঁছল, তা নিয়েই এখন তদন্তকারীদের সামনে বড় প্রশ্ন।
ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কারেন্সি চেস্টে টাকা ঢোকা ও বেরোনোর রেকর্ড, নগদ গোনা ও প্যাকিংয়ের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনায় চার ব্যাঙ্ককর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁদের ভূমিকা কী ছিল এবং কারেন্সি চেস্টে জাল নোট ঢোকার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি বা যোগসাজশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন জাল নোটের উৎস খুঁজে বার করা। আসল নোট কখন এবং কী ভাবে সরানো হয়েছিল, তার পরিবর্তে জাল নোট কী ভাবে ভল্টে ঢুকল এবং পুরো ঘটনায় আরও কোনও ব্যক্তি বা চক্র যুক্ত রয়েছে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
কারেন্সি চেস্টের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত জায়গায় এত বিপুল পরিমাণ জাল নোটের উপস্থিতি ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নগদ যাচাই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যের পুরো ছবি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post