নয়াদিল্লি: ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ মিছিল প্রত্যাহার করে নিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র এবং একাধিক রাজ্য সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করেছে। সেই আশ্বাসের পরই মিছিল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সিজেপি।
গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর দেশজুড়ে চলা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং নিট-সহ পরীক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কারের দাবিও সেই সময় আলোচনায় ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এফআইআর প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে যথেষ্ট অগ্রগতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলে সিজেপি।
এর পরেই ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ছাত্র এবং যুব সংগঠনগুলির অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের বিষয়ে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশও আদালতে জানিয়েছে, পুরনো অপরাধের মামলা রয়েছে এমন আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট আন্দোলন-পর্বের মামলাগুলির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম এবং মহারাষ্ট্রে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়।
কেন্দ্রের এই আশ্বাসের পর সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস আদালতে জানান, সরকার ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ায় ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করাই তাঁরা সমীচীন মনে করছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চও দুই পক্ষকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোনোর বার্তা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে অস্বীকার করেছিল। আদালত জানিয়েছিল, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে আগাম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করার মতো যথেষ্ট কারণ নেই এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের। তার এক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রের আশ্বাসের ভিত্তিতে মিছিল প্রত্যাহারের ঘোষণা করল সিজেপি।
ফলে আপাতত দিল্লিতে ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান হল। এখন নজর থাকবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা এফআইআরগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পূর্ণ হয় এবং কেন্দ্রের দেওয়া অন্যান্য প্রতিশ্রুতি কী ভাবে কার্যকর করা হয়, তার দিকে।