এবার ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত, বিপর্যয়ের মধ্যেই ফের ভূকম্পন নেপালে


নয়া দিল্লি: ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত। মঙ্গলবার তিব্বত অঞ্চলে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)। ভূমিকম্পটির উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে এখনও পর্যন্ত এই কম্পনে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
EMSC-র তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে হওয়া এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার, যা প্রায় ২১.৭৫ মাইলের সমান। ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৩ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও খবর সামনে আসেনি।
ফের ভূমিকম্প তিব্বতে

হিমালয় অঞ্চলে ভূমিকম্প নতুন কোনও ঘটনা নয়। ভারতীয় ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে ধরা হয়। ফলে তিব্বত, নেপাল, হিমালয়ের বিভিন্ন অংশ এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝেমধ্যেই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

তবে মঙ্গলবারের ভূমিকম্পটি এমন এক সময়ে হল, যখন তিব্বত-নেপাল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। এর আগে তিব্বত থেকে নেপালের দিকে ভয়াবহ বন্যা নেমে এসেছিল। বরফ-পাথরের ধস এবং হিমবাহ ধসের জেরে তৈরি হওয়া সেই বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বত—দুই জায়গাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, ৫.৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পের পর তৎক্ষণাৎ কোনও প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে তিব্বত ও নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামনে এসেছে। সম্প্রতি তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে বরফ-পাথরের ধসের জেরে ভয়াবহ বন্যায় নেপালে হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে নেপালের কর্তৃপক্ষ।

তাই নতুন করে তিব্বতে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পের খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই হিমালয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই ভূমিকম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সরাসরি যোগ রয়েছে—এমন কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।     


Post a Comment

Previous Post Next Post