বারুদের স্তূপে বীরভূম! এনআইয়ের জালে কুখ্যাত ‘কালো আঙুর’


নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: বীরভূমের মাটিতে বেআইনি বিস্ফোরক মজুত ও পাচার ঘিরে ফের চাঞ্চল্য। একসময় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নাম উঠে এসেছিল আঙুর শেখের। স্থানীয় মহলে কুখ্যাত ‘কালো আঙুর’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছিল বিস্ফোরক মজুত ও সরবরাহের অভিযোগ। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই বীরভূমের পাথরখাদান অধ্যুষিত এলাকায় বেআইনি বিস্ফোরকের কারবার নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
পুলিশের অভিযানে আঙুর শেখের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০১৮ সালের সেই ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছিল, নলহাটি এলাকায় একটি বাড়ি থেকে ৫০ হাজারের বেশি ডেটোনেটর এবং প্রায় ১১ হাজার জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল আঙুর শেখকে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান ছিল, পাথরখাদানে অবৈধ বিস্ফোরণের কাজে ওই সামগ্রী সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথা থেকে সেগুলি এসেছিল এবং কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছিল।
আঙুর শেখের নাম অবশ্য শুধু বিস্ফোরক-কাণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বীরভূমের রামপুরহাট-বগটুই এলাকার অপরাধজগতের প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্র ও তদন্তকারীদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে বেআইনি তোলাবাজি, জমি দখল এবং অবৈধ বালি-পাথরের কারবারের যোগের অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছিল।
বীরভূমে পাথরখাদান ও বেআইনি খননকে ঘিরে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। অতীতে জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের পাশাপাশি খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বেআইনি বিস্ফোরকের উৎস, সরবরাহের নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে অপরাধচক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীদের নজর বরাবরই বীরভূমের দিকে।
‘কালো আঙুর’কে ঘিরে বিস্ফোরক-কাণ্ডের পুরনো তথ্য সামনে আসতেই ফের আলোচনায় এসেছে বীরভূমের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। তবে বর্তমানে কোনও নির্দিষ্ট তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, কিংবা এনআইএ-র সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সঙ্গে তাঁর কী প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে—তা নির্ভর করছে তদন্তের সরকারি তথ্য ও আদালতের নথির উপর। অভিযোগকে তাই এখনও অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post