২০ দিনে প্রাণ কেড়েছে চার জনের! ঘুমপাড়ানি ওষুধ দেওয়ার পর আর ঘুমই ভাঙল না মানুষখেকো বাঘিনির


মাত্র ২০ দিনের মধ্যে চার জনের প্রাণহানির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠা সেই ‘মানুষখেকো’ বাঘিনির অবশেষে সন্ধান মিলেছিল। বন দফতরের বিশেষ দল তাকে ঘুমপাড়ানি ওষুধ দিয়ে অচেতন করে। পরিকল্পনা ছিল দূরের বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নিরাপদে রাখার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ঘুম ভাঙল না বাঘিনির। অচেতন অবস্থাতেই মৃত্যু হল তার।

শেষ পর্যন্ত সোমবার সিরাজগাঁও কসবায় বাঘিনিটির সন্ধান মেলে। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় বন দফতরের বিশেষ দল। দীর্ঘ অভিযানের পর বাঘিনিটিকে ঘুমপাড়ানি ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়। এরপর সেটিকে নাগপুর বন্যপ্রাণী উদ্যানকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

কিন্তু সিরাজগাঁও থেকে নাগপুর বন্যপ্রাণী কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় তিন ঘণ্টার। এতটা পথ অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া বাঘিনিটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন বনকর্তারা। কারণ, দীর্ঘ যাত্রার মাঝে তার চেতনা ফিরে আসার সম্ভাবনাও ছিল। সেই কারণে বাঘিনিটিকে প্রথমে কাছাকাছি একটি বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সেখানেই ঘটে বিপত্তি। অচেতন অবস্থায় থাকা বাঘিনিটির আর জ্ঞান ফেরেনি। শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। বাঘিনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই একদিকে যেমন স্বস্তি ফেরে আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের মধ্যে, তেমনই অন্যদিকে প্রশ্ন ওঠে, কী ভাবে মৃত্যু হল প্রাণীটির?

বন দফতরের তরফে অবশ্য এখনই মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করা হয়নি। কর্তাদের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের পরই বাঘিনিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। ঘুমপাড়ানি ওষুধের প্রভাব, দীর্ঘক্ষণ অচেতন থাকা কিংবা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

একদিকে চারটি প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাঘিনির মৃত্যুতে স্বস্তি ফিরেছে। অন্যদিকে, বন দফতরের অভিযানের পর একটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যু ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই আপাতত সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post