ভাইকে দেখে শুরু, ধার করা বন্দুক, টিনের ক্যানে অনুশীলন! আট বছর পর সেই নীরুই আনলেন এশিয়াডে সোনা


স্বপ্নটা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণ ভাবে। তুতো ভাইকে শুটিং করতে দেখে বন্দুক হাতে নিয়েছিলেন তিনি। নিজের কোনও শটগান ছিল না। তাই শুরুতে ভাইয়ের কাছ থেকেই বন্দুক ধার করে অনুশীলন করতে হত। অনুশীলনের জন্য ছিল না বড় কোনও শুটিং রেঞ্জও। টিনের ক্যানকে নিশানা করেই চলত প্রস্তুতি। সেই নীরু ধঁধাই আট বছর পর এশিয়ান গেমসে দেশের হয়ে জিতে নিলেন ব্যক্তিগত সোনা।
চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত সোনা এসেছে শুটিং থেকে। মহিলাদের ট্র্যাপ ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সুবেদার নীরু। ফাইনালে চিনের প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম, সীমিত সুযোগের মধ্যেও অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জেদ এবং পরিবারের অনুপ্রেরণা।
নীরুর শুটিংয়ে আসার গল্পটিও বেশ অন্য রকম। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ট্র্যাপ ইভেন্টে রুপো জিতেছিলেন তাঁর তুতো ভাই লক্ষ্য সেওরান। ভাইয়ের সেই সাফল্যই নীরুকে শুটিংয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে। লক্ষ্যকে দেখে বন্দুক হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। নিজের শটগান না থাকায় ভাইয়ের বন্দুক ধার করেই অনুশীলন করতেন নীরু। এমনকি টিনের ক্যানকে নিশানা করে চালাতেন নিয়মিত অনুশীলন।
ক্রমে সেই অনুশীলনই তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেয়। ২০২২ সালের শুটিং বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম বার ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নীরু। তার পর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। চলতি বছরও দুরন্ত ছন্দে ছিলেন তিনি। ভারতের প্রথম মহিলা শুটার হিসাবে ব্যক্তিগত ট্র্যাপ ইভেন্টে সোনা জেতেন নীরু। পাশাপাশি মিক্সড ট্র্যাপ ইভেন্টে ব্রোঞ্জও জেতেন।
এশিয়ান গেমসেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন নীরু। চলতি প্রতিযোগিতায় এটি তাঁর দ্বিতীয় পদক। এর আগে মিক্সড টিম ট্র্যাপ ইভেন্টে রুপো জিতেছিলেন তিনি। তবে এ বার ব্যক্তিগত ইভেন্টে নেমে আরও বড় সাফল্য এল তাঁর হাতে। শুধু নিজের দ্বিতীয় পদকই নয়, চলতি এশিয়াডে ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত সোনাও এনে দিলেন নীরু।
এশিয়ান গেমসে ভারত এর আগে মহিলাদের ক্রিকেট, পুরুষ ও মহিলাদের কবাডি এবং শুটিংয়ের মিক্সড ইভেন্টে সোনা জিতেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনার অপেক্ষা ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন নীরু। মাত্র আট বছর আগে যিনি তুতো ভাইয়ের সাফল্য দেখে শুটিং শুরু করেছিলেন, তিনিই আজ এশিয়ার সেরা হয়ে দেশের জন্য ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post