ঘটনায় মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায়, সহ-সভাপতি সুশান্ত রায় ও প্রাক্তন সভাপতি নির্মল মাজি–সহ একাধিক শীর্ষ পদাধিকারীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রয়োজনে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। এ দিন, স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো চিঠিতে সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান মেডিক্যাল কাউন্সিল চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়ায় চিকিৎসক সমাজ ও সাধারণ মানুষের আস্থা সম্পূর্ণ হারিয়ে গিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ যাচাই ছাড়া ভুয়ো নথি, জাল ডিগ্রি ও নথিপত্রের ভিত্তিতে বহু অযোগ্য ব্যক্তিকে রাজ্যে চিকিৎসা করার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে অথবা তা পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্য জুড়ে জনস্বাস্থ্য এবং লক্ষ–লক্ষ সাধারণ রোগীর সুরক্ষা বিপদের মুখে পড়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এই ধরনের বেনিয়ম চরম বিপজ্জনক বলেও দাবি করা হয়েছে। বর্তমান পদাধিকারীরা পদে বহাল থাকলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ লোপাট হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফোরাম ও বেসরকারি হাসপাতালের সংগঠনটি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক দাবি পেশ করেছে চিকিৎসকদের এই সংগঠনগুলি। তাদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—কাউন্সিল ভাঙা ও প্রশাসক নিয়োগ, আইনি প্রক্রিয়া মেনে বর্তমান বোর্ড অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া এবং একজন নিরপেক্ষ প্রশাসক বা 'অ্যাড-হক বোর্ড'–নিয়োগ করা। পাশাপাশি, কাউন্সিলের বর্তমান কর্তাব্যক্তিদের পদ থেকে দ্রুত সরিয়ে সমস্ত ডিজিটাল ও কাগজের নথি, সার্ভার ডেটা এবং রেজিস্ট্রেশন ফাইল অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত ও সুরক্ষিত রাখা, যাতে কোনও প্রমাণ নষ্ট বা লোপাট না করা যায়।
সংগঠনগুলির বক্তব্য, চিকিৎসাক্ষেত্রে তৈরি হওয়া এই তীব্র সঙ্কট কাটাতে রাজ্য সরকার আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। প্রয়োজন পড়লে জরুরি ভিত্তিতে অর্ডিন্যান্স জারি করা হলেও কাউন্সিলের দখল নিয়ে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে। বুধবার ক্লিনিক্যাল এস্ট্যাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও বেসরকারি নার্সিংহোমে যদি জাল চিকিৎসকের হদিশ মেলে, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে।