নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: বিষমদে মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে রাজ্যজুড়ে বেআইনি মদের কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও আবগারি দফতর। লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে তুলনামূলক কম দামে দেশি মদ বিক্রির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও হাওড়া ও হুগলির বেশ কিছু এলাকায় চোলাই মদের চাহিদা কমছে না। বরং সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে বেআইনি চোলাইয়ের কারবার এখনও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া ও হুগলির বেশ কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চোলাই তৈরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একাধিক চক্র। পুলিশি নজরদারি বাড়তেই বদলে যাচ্ছে পাচারের কৌশল। কখনও বাইক, কখনও অন্য যানবাহন ব্যবহার করে চোলাই এক এলাকা থেকে অন্যত্র পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। এমনকি সম্প্রতি একটি অ্যাম্বুল্যান্স থেকেও চোলাইয়ের প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আবগারি দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, কিছু এলাকায় বহু বছর ধরে চোলাই উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির একটি অংশ জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পুরনো অভ্যাসের কারণে নিয়মিত ক্রেতাদের একাংশও বেআইনি মদের দিকে ঝুঁকে থাকছেন বলে প্রশাসনের দাবি।
চোলাইয়ের বিকল্প হিসেবে কম দামে বৈধ দেশি মদ বাজারে আনার পরেও কেন বেআইনি মদের চাহিদা থেকে যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের মতে, সহজলভ্যতা এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাস এর অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, চোলাইয়ের গুণমান বা উপাদান নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে চোলাই উৎপাদন, পরিবহণ ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে। কারণ বেআইনি মদের কারবার বন্ধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।