দিল্লির মেসবাড়ি ভেঙে মৃত্যু যুবরাজের! সিএ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিল্লি এসেছিলেন রায়পুরের বাসিন্দা, শোকার্ত পরিবার


নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: চোখে ছিল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই ছত্তীসগঢ়ের রায়পুর থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন যুবরাজ সোনী। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোতীলাল নেহরু কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন তিনি। কিন্তু রবিবার সত্য নিকেতন এলাকার একটি পিজি বা মেসবাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ গেল ২০ বছরের যুবরাজের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে পড়াশোনার জন্য দিল্লিতে এসেছিলেন যুবরাজ। সম্প্রতি সত্য নিকেতনের ‘হস্টেল ডেজ়’ নামে ওই পিজিতে ঘর নিয়েছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই সেখানে উঠেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রবিবার দুপুরে আচমকাই পাঁচতলা বাড়িটি ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন একাধিক পড়ুয়া। উদ্ধারকাজের পর যুবরাজের দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পরবর্তী সময়ে জানা যায়।
ছেলের মৃত্যুর খবর দীর্ঘ সময় জানতে পারেননি যুবরাজের বাবা কানহাইয়া সোনী। পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিলেন যুবরাজ। পরিস্থিতির কথা ভেবে পরিবারের সদস্যেরা প্রথমে বাবাকে জানান, যুবরাজ আহত হয়েছেন। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হলেও বাবাকে সত্যিটা জানাতে পরিবারের সদস্যেরা সাহস পাচ্ছিলেন না বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যুবরাজের আত্মীয় নীতীশ।
রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছিলেন যুবরাজ। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ৩১ অগস্ট আবার দিল্লি ফিরে আসেন তিনি। সেটিই যে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হবে, তা ভাবতে পারেননি কেউ। যুবরাজের মা-বাবা এবং এক বোন রয়েছেন। রায়পুরের পঞ্চশীল নগরের বাড়িতে এখন শুধুই শোকের পরিবেশ। প্রতিবেশীরাও তাঁর অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ।
এদিকে, সত্য নিকেতনের এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পিজি বাড়িটির নিরাপত্তা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। দিল্লি পুরসভা (MCD) ঘটনার পর দক্ষিণ জ়োনের এক ডেপুটি কমিশনার এবং চার জন ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করেছে। দিল্লি হাই কোর্টও পড়ুয়াদের জন্য পর্যাপ্ত হস্টেল না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে ঘটনার দায় শুধু বাড়ির মালিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
একদিকে প্রশাসনিক তদন্ত, অন্যদিকে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক—এই দুইয়ের মাঝেই এখন রায়পুরে ফেরার প্রস্তুতি যুবরাজের পরিবারের। যে শহরে সিএ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিলেন যুবরাজ, সেখান থেকেই শেষ বার নিথর দেহ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে তাঁর পরিজনদের।

Post a Comment

Previous Post Next Post