যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ফের বিতর্ক। এবিভিপির যাদবপুর ইউনিটের সভাপতি তথা গবেষক-ছাত্র নিখিল দাসকে জাতিগত পরিচয় নিয়ে হেনস্থার অভিযোগে এবার পদক্ষেপ করল জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।
জানা গিয়েছে, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন নিখিল। তাঁর অভিযোগ, গত ১৯ অগস্ট ক্যাম্পাসে তাঁকে ‘দলিত’ বলে আক্রমণ করা হয়। তাঁর দাবি, শারীরিক ও মানসিক ভাবে হেনস্থার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগ জানিয়ে তিনি জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের দ্বারস্থ হন।
নিখিলের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। যদিও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। যাদবপুরে গত অগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে এবিভিপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার আবহেই এই অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগ পাওয়ার পর জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন যাদবপুরের উপাচার্য এবং কলকাতার নগরপালের কাছে ঘটনার বিষয়ে পদক্ষেপের রিপোর্ট চেয়েছে। চিঠিতে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি SC/ST/OBC Cell রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সেল সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের সমস্যার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংরক্ষণ-সহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে।
ফলে নতুন এই অভিযোগ ঘিরে যাদবপুরে ফের জাতিগত বৈষম্য, ছাত্ররাজনীতি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন জাতীয় তফসিলি কমিশনের চিঠির পর বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের রিপোর্টে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর।