নয়াদিল্লি: দেশের রাজধানী দিল্লিতে পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতি বছর বহু পড়ুয়া আসেন। তাঁদের বড় অংশই থাকেন বিভিন্ন মেসবাড়ি বা পিজি-তে। কিন্তু সেখানে থাকার পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠছে। কোথাও ঘিঞ্জি ঘর, কোথাও অপর্যাপ্ত আলো-বাতাস, আবার কোথাও অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও রান্নাঘর—সব মিলিয়ে সমস্যায় পড়ুয়ারা।
অভিযোগ, স্বল্প জায়গায় অতিরিক্ত সংখ্যক পড়ুয়াকে রাখা হয় অনেক মেসে। ঘরের আয়তনের তুলনায় শয্যার সংখ্যা বেশি হওয়ায় ব্যক্তিগত পরিসর কার্যত থাকে না। অনেক জায়গায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই দিনের পর দিন থাকতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।
এক পড়ুয়ার কথায়, মেসবাড়ির পরিস্থিতি দেখে অনেক সময় তাঁর ‘মনে হয় যেন জেলে আছি’। পড়াশোনার জন্য বাড়ি থেকে দূরে এসে এমন পরিবেশে থাকতে গিয়ে মানসিক চাপও বাড়ছে বলে দাবি কয়েকজনের।
শুধু থাকার ঘর নয়, খাবারের মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। কোথাও খাবারের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আবার কোথাও পানীয় জল ও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবাসিকরা। অভিযোগ জানালেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে দাবি তাঁদের।
দিল্লির বিভিন্ন ছাত্রাবাস ও মেসবাড়িতে ভাড়ার পরিমাণও কম নয়। সেই তুলনায় পরিষেবা ও পরিকাঠামো যথাযথ নয় বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের একাংশের। তাঁদের দাবি, বাইরে থেকে দিল্লিতে এসে থাকার জায়গা খোঁজার সময় অনেকেই বাধ্য হয়ে কম খরচের মেস বেছে নেন। পরে সমস্যার মুখে পড়লেও বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করা সবসময় সম্ভব হয় না।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, থাকার জায়গাগুলিতে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি প্রয়োজন। প্রশাসনের তরফে মেসবাড়ি ও পিজিগুলির পরিকাঠামো, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আবাসিকদের মৌলিক সুবিধা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
দিল্লির মতো শহরে হাজার হাজার পড়ুয়া ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে আসেন। তাঁদের থাকার জায়গাই যদি অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ হয়ে ওঠে, তা হলে পড়াশোনার পরিবেশও ব্যাহত হয়। তাই মেসবাড়িগুলির পরিষেবা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দ্রুত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।