মহার্ঘ মুরগির খাবার! ডিম-মাংসের দামে আঁচ, হাত পুড়ছে মধ্যবিত্তের


নিজস্ব প্রতিবেদন:
মুরগির খাবারের দাম বাড়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে পোলট্রি শিল্পে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ডিম ও মুরগির মাংসের দামে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় খামার মালিকদের একাংশ ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার আঁচ গিয়ে পড়তে পারে বাজারের দামে। ফলে আমিষের জোগান ধরে রাখতে গিয়ে মধ্যবিত্তের সংসারের খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পোলট্রি শিল্পে মুরগির খাদ্য বা ফিড অন্যতম প্রধান উৎপাদন খরচ। ভুট্টা, সয়াবিন-সহ বিভিন্ন কাঁচামালের দামের ওঠানামার উপর নির্ভর করে সেই খাদ্যের দামও পরিবর্তিত হয়। ফিডের দাম বাড়লে মুরগি প্রতিপালনের খরচ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক ভাবেই সেই বাড়তি খরচের একটা অংশ ডিম ও মাংসের বিক্রয়মূল্যে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
খামারিদের বক্তব্য, শুধু খাদ্যের দাম নয়, বিদ্যুৎ, পরিবহণ, ওষুধ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও পোলট্রি ব্যবসার উপর চাপ তৈরি করছে। ফলে উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের মধ্যে ভারসাম্য রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। ছোট ও মাঝারি খামারগুলির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ক্রেতাদের উপরও। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় তুলনামূলক ভাবে সস্তা প্রাণিজ প্রোটিন হিসেবে ডিম ও মুরগির মাংসের চাহিদা যথেষ্ট। উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে যদি পাইকারি ও খুচরো বাজারে দাম বাড়ে, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই মাসের বাজারের হিসাব আরও কিছুটা বাড়বে।
তবে ফিডের দাম বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে খুচরো বাজারে ডিম বা মুরগির মাংসের দাম একই অনুপাতে বাড়বে—এমনটা নয়। চাহিদা-জোগান, মুরগির উৎপাদন, স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি এবং পরিবহণ খরচ-সহ একাধিক বিষয়ের উপর চূড়ান্ত দাম নির্ভর করে। তাই আগামী দিনে ফিডের বাড়তি খরচ কতটা বাজারদরে প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই নজরে।
পোলট্রি শিল্পের খরচ বৃদ্ধির এই চাপ নিয়ন্ত্রণে না এলে উৎপাদক থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা—দুই পক্ষকেই সমস্যায় পড়তে হতে পারে। একদিকে খামারিদের উৎপাদন ব্যয়, অন্য দিকে মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের বাজেট—দুইয়ের মাঝেই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিম-মুরগির ভবিষ্যৎ দাম।

Post a Comment

Previous Post Next Post