নবরাত্রির আগে গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মহারাষ্ট্রে আয়োজিত গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার কার্ড দেখানো এবং কপালে তিলক লাগানোর মতো নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
VHP-র বক্তব্য, নবরাত্রি শুধুমাত্র গান বা নাচের অনুষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস ও দেবীর আরাধনা জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই উৎসবের ধর্মীয় চরিত্র বজায় রাখার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই নির্দেশিকা সাম্প্রদায়িক বিভাজন বাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে VHP-র অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত দেশ এবং সংবিধান সব ধর্মের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করেছে। তাই কোনও একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে গরবা বা নবরাত্রির অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার অবস্থান তিনি সমর্থন করেন না।
আঠাওয়ালে আরও বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পরের উৎসবে অংশ নেন। তাঁর মতে, উৎসব মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার পরিবর্তে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা বহন করা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি আজমের শরিফে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের যাওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন।
গরবা মূলত গুজরাতের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নবরাত্রির সময় তা জনপ্রিয়। ২০২৩ সালে গুজরাতের গরবা ইউনেস্কোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাতেও জায়গা পেয়েছে।
ফলে নবরাত্রির উৎসব শুরুর আগেই গরবা-ডান্ডিয়াকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ এবং সংবিধানের মূল্যবোধ নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে VHP-র তরফে ধর্মীয় চরিত্র রক্ষার যুক্তি, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তরফে সংবিধান ও সম্প্রীতির বার্তা—দুই ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে আগামী দিনে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।