হাওড়া পুরনিগম: ডেঙ্গি মোকাবিলায় জোরদার প্রস্তুতি



হাওড়া: বর্ষার মরশুমে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ রুখতে আরও তৎপর হাওড়া পুরনিগম। ডেঙ্গি ও অন্যান্য ভেক্টর-বাহিত রোগ প্রতিরোধে শহরজুড়ে জোরদার করা হয়েছে বিশেষ অভিযান। পুরনিগমের স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করার পাশাপাশি ফগিং, মশারি বিতরণ, মাইকিং এবং জ্বরপরীক্ষা শিবিরের মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতন করছেন।

পুরনিগম সূত্রে খবর, ডেঙ্গি প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি, নির্মাণস্থল, পরিত্যক্ত জমি, নালা-নর্দমা এবং জল জমে থাকার সম্ভাব্য জায়গাগুলিতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোথাও জমে থাকা জল দেখতে পাওয়া গেলে, তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি, নাগরিকদেরও বাড়ির আশপাশে যাতে জল জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

মশার ঘনত্ব কমাতে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ফগিং অভিযানও চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মশার উপদ্রব বেশি এমন এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে পুরনিগমের কর্মীরা ফগিং করছেন। পাশাপাশি, যে সব এলাকায় প্রয়োজন, সেখানে নাগরিকদের মধ্যে মশারি বিতরণ করা হচ্ছে। শুধু মশা নিধন নয়, ডেঙ্গি নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে হাওড়া পুরনিগম।

মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গির লক্ষণ, মশার প্রজননস্থল এবং প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। নাগরিকদের বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম কিংবা অন্যান্য জায়গায় যাতে দীর্ঘদিন জল জমে না থাকে, সে বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, নিয়মিত জ্বরপরীক্ষা শিবির বা ফিভার ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে।

জ্বর বা ডেঙ্গির উপসর্গ রয়েছে, এমন বাসিন্দাদের পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত রোগ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন বলে পুরনিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুরনিগমের বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদ্যোগে ডেঙ্গি সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকেও সক্রিয় হতে হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post