পেঁয়াজের দামে ফের চোখে জল সাধারণ মানুষের। বাজারে ইতিমধ্যেই খুচরো দরে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা ছুঁয়েছে। আগামী দিনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি এমনই থাকলে কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকাতেও পৌঁছে যেতে পারে পেঁয়াজের দাম—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাঙালির হেঁশেলে পেঁয়াজ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি। রান্নার শুরু থেকে বিভিন্ন পদে এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বাড়লে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে মধ্যবিত্তের মাসিক বাজারের খরচে। ইতিমধ্যেই আলু, অন্যান্য সবজির পাশাপাশি পেঁয়াজের দামও বাড়তে থাকায় চিন্তায় পড়েছেন ক্রেতারা।
রাজ্যে ফলন হয়, তবু ভরসা ভিন্রাজ্যের
পশ্চিমবঙ্গেও পেঁয়াজের চাষ হয়। বিশেষ করে রাজ্যের কিছু জেলায় শীতকালীন মরসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন হয়। কিন্তু রাজ্যের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন পর্যাপ্ত নয়। ফলে বছরের একটা বড় সময় বাইরের রাজ্য থেকে পেঁয়াজ আমদানির উপর নির্ভর করতে হয় বাংলাকে।
দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র অন্যতম প্রধান রাজ্য। নাসিক-সহ মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় পেঁয়াজের চাষ হয়। পাশাপাশি কর্নাটকও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজ উৎপাদক। ফলে এই দুই রাজ্যের ফলন, বাজারদর এবং পরিবহণ পরিস্থিতির উপর বাংলার বাজারদর অনেকটাই নির্ভরশীল।
কেন বাড়ে দাম?
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজের দাম ওঠানামার পিছনে একাধিক কারণ কাজ করে। আবহাওয়ার প্রভাব, উৎপাদনের পরিমাণ, মজুত পরিস্থিতি, পরিবহণ খরচ এবং পাইকারি বাজারের দর—সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাব পড়ে খুচরো বাজারে।
মহারাষ্ট্র বা কর্নাটকে ফলন কম হলে কিংবা সেখানকার বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে পশ্চিমবঙ্গেও। দূরবর্তী রাজ্য থেকে পেঁয়াজ আনতে পরিবহণ খরচও যোগ হয়। ফলে পাইকারি বাজারের পর খুচরো বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে।
রাজ্যের উৎপাদন বাড়ানোই কি সমাধান?
কৃষকদের একাংশের মতে, বাংলায় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো গেলে ভিন্রাজ্যের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে তার জন্য উন্নত বীজ, সেচের ব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার এবং চাষিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি।
কারণ পেঁয়াজ এমন একটি ফসল, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা না গেলে উৎপাদনের সময় কম দামে বিক্রি হয়ে যেতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বাজারে ঘাটতি তৈরি হলে দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন নজর পেঁয়াজের বাজারের দিকেই। ৬০ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে দাম সত্যিই ৮০ টাকায় পৌঁছয় কি না, নাকি নতুন সরবরাহ বাজারে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়—সেদিকেই তাকিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা দু’পক্ষ।