বাল্যবিবাহ রুখতে ‘ভিশন ডকুমেন্ট’ তৈরি করছে কেন্দ্র, রাজ্যের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিকল্পনা



বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা মাতৃত্বের উদ্বেগজনক ছবি বদলাতে গত সপ্তাহেই কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, একই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক–সহ দেশের অনেকগুলি রাজ্যেই। সার্বিক ভাবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য এ বার কোমর বেঁধে মাঠে নামছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের দাবি, এই মর্মে কিছুদিনের মধ্যেই দেশের সব রাজ্যের বিভাগীয় মন্ত্রী এবং শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও নারী-শিশু কল্যাণ মন্ত্রক৷ আলাদা আলাদা ভাবে প্রতিটি রাজ্যের বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত চিত্র জানার পরে তা বিশ্লেষণ করে তৈরি হবে একটি ভিশন ডকুমেন্ট৷
কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক চাইছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও বিডিও–দের মাধ্যমে গ্রাউন্ড জি়রোতে পদক্ষেপ করতে, যেখানে একেবারে পঞ্চায়েত স্তর থেকে বাল্যবিবাহ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ পঞ্চায়েত ও ব্লকের পরিস্থিতির উপরে নজরদারি চালাবেন স্থানীয় বিডিওরা৷ তাঁরা রিপোর্ট পাঠাবেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের অফিসে৷ এই রিপোর্ট যাবে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকেও৷ ছ’মাস অন্তর রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে কেন্দ্র৷ প্রয়োজনে আরও কড়া আইনি পদক্ষেপ করা যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন মন্ত্রকের কর্তারা৷
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সেন্সাস কমিশনার অফ ইন্ডিয়ার ‘স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম স্ট্যাটিসটিক্যাল রিপোর্টে’ জানানো হয়েছে, ১৮ বছরের নীচে থাকা মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে সারা দেশের মধ্যে শীর্ষে আছে পশ্চিমবঙ্গ৷ এ রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নাবালিকা মাতৃত্বের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার বলে গত সপ্তাহে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন। যাঁরা নাবালিকা বিবাহ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনি পদক্ষেপও শুরু করেছে। এমনকী, তাঁদের সরকারি ভাতা বন্ধ হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বাংলা–সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ তৃণমূল সরকারের জমানায় বঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য কার্যত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছিলেন এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার৷ একইরকম অভিযোগ এসেছে আরও কয়েকটি রাজ্য থেকে। তারপরেই আরও কোমর বেঁধে এগোতে চাইছে কেন্দ্র।

Post a Comment

Previous Post Next Post