কাকভোরে উদাত্ত কণ্ঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের স্তোত্রপাঠ। আর গঙ্গাঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। মহালয়ার সকালে চেনা ছবি গোটা রাজ্যে। শনিবার সকালে বাবুঘাট থেকে জাজেস ঘাটে পিতৃ তর্পণ করলেন বহু মানুষ। প্রতিটি ঘাটে চোখে পড়ল কড়া নিরাপত্তা। জলপথে চলল নজরদারি। ঘাট লাগোয়া রাস্তায় নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল।
তর্পণ শব্দটি এসেছে ‘ত্রুপ’ থেকে। অর্থ সন্তুষ্ট করা। ভগবান, ঋষি ও পূর্বপুরুষের আত্মার উদ্দেশে জল নিবেদন করে তাঁদের সন্তুষ্ট করাকে তর্পণ বলা হয়। ভগবান ও পূর্বপুরুষের আত্মার নাম উচ্চারণ করে তাঁদের কাছে সুখশান্তির প্রার্থনা করা হয়। পিতৃ ও মাতৃ তর্পণের সময় জল, তিল, চন্দন, তুলসিপাতা ও ত্রিপত্রী আর অন্যান্য তর্পণের সময় তিলের পরিবর্তে ধান বা যব ব্যবহার করা হয়। আর চন্দন, তিল ও যব না থাকলে কুরুক্ষেত্র মন্ত্র পাঠের জলে তুলসি পাতা দিয়ে তর্পণ করতে হয়। এর মধ্যে তিল তর্পণ মানে জল ও তিল একসঙ্গে নিয়ে পূর্বপুরুষের আত্মার উদ্দেশে নিবেদন করতে হবে।
পিতৃতর্পণের সময় অবশ্যই তিল ব্যবহার করতে হবে। আর তা কালো তিল হতে হবে। তিল না থাকলে শুধু কুরুক্ষেত্র মন্ত্র পাঠের জলে তুলসী পাতা দিয়া তর্পণ করতে হবে। সনাতন ধর্মের ইতিহাস অনুযায়ী, সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষের সূচনা হয়। মানুষের বিশ্বাস, এসময় পূর্বপুরুষরা পিতৃলোক ছেড়ে করে তাঁদের উত্তরপুরুষদের বাড়িতে অবস্থান করেন। পরে সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে, তাঁরা পুনরায় পিতৃলোকে ফিরে যান। পিতৃগণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে তাঁদের উদ্দেশে তর্পণ করতে হয়।