সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে ওই দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। রাজ্যের তরফে ১৭টি পরিবারকে সরকারি ক্ষতিপূরণ-সহ উপযুক্ত একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো এ দিন রামনগরের বাড় সোলেমনপুরে গৃহবধূ কল্পনা জানার বাড়িতে যান তিনি। কল্পনার বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি রামনগরের তালগাছাড়ি ও বাগপুরাগ্রামে।
স্বামী হরেকৃষ্ণ জানা কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন দিল্লিতে থাকার পরে কলকাতায় চলে আসেন। তিনি একটি ফাস্টফুড সংস্থার কর্মী। প্রায় ছয় বছর ধরে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির ধানকল এলাকায় স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকেন। বছর উনিশের মেয়ে জয়িতা আইন পড়ছে। বছর তেরোর ছেলে কিংশুক অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। মায়ের মৃত্যুর পরে ভাই-বোন দু'জনেই বাকরুদ্ধ। স্ত্রীর মৃত্যুর পরে হরেকৃষ্ণ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছেন।
বিধায়ক বাড় সোলেমনপুরে কার্যালয়ে এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'মন কি বাত' শোনার পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দলীয় কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে শুভ বিজয়া ও লক্ষ্মীপুজোর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যে বেহাল কৃষি, শিল্প ও শিক্ষার উন্নতির সঙ্গে ধনদেবীর কাছে বাংলার সমৃদ্ধি এবং সবাঙ্গীন বিকাশে প্রার্থনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে। মালদহ ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ বাদ দিলে রাজ্যে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা না হওয়ার কারণে ধান ও অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হবে।
কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে সরকারি ভাবে ধান কেনার পাশাপাশি কুইন্টাল প্রতি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত ২০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ দিন ফের তিনি বালি পাচার ও অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুভেন্দু বলেন, 'সেচ দপ্তরের গাইডলাইন মেনে এবং পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে বৈধ ভাবে নিলামের মাধ্যমে বালি তুলতে হবে। যাতে নদীর গতিপথ নষ্ট না হয়। কারণ, বালি থেকে সংগৃহীত টাকা রাজ্যের উন্নয়নে খরচ করা হয়।'