হরমুজ়ে ভারতীয় নাবিকবাহী দুই জাহাজে পর পর হামলা! নিখোঁজ অন্তত দু’জন, মুখ খুলল ভারত, নিন্দা করে কঠোর বিবৃতি জারি


হরমুজ় প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকবাহী পর পর দু’টি জাহাজে হামলা! নিখোঁজ দুই ভারতীয়, কড়া বার্তা নয়াদিল্লির

হরমুজ় প্রণালীতে ফের বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল আন্তর্জাতিক মহলে। রবিবার ওমানের উপকূলের কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পেরোনোর সময় পর পর দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, দু’টি জাহাজেই ছিলেন ভারতীয় নাবিকেরা। প্রথম জাহাজটির উপর ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনায় দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। দ্বিতীয় জাহাজটির উপরেও হামলার ঘটনা ঘটলেও সেখানে থাকা নাবিকেরা সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

পর পর দু’টি জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কড়া বিবৃতি জারি করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবিলম্বে এই ধরনের হামলা বন্ধ করার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং উত্তেজনা প্রশমনের উপরেও জোর দিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের ঘটনা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা এবং নাবিকদের জীবন বিপন্ন করে তোলার মতো ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালীর মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সংঘাত ও হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই অবিলম্বে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

ড্রোন হামলায় নিখোঁজ দুই ভারতীয় নাবিক

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমটি পেট্রো ডলফিনে মোট ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। রবিবার ওমানের উপকূলের কাছে হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করার সময় জাহাজটির উপর ড্রোন আছড়ে পড়ে বলে অভিযোগ। হামলার পর জাহাজটিতে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। ওই জাহাজ থেকে ন’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি দুই ভারতীয় নাবিকের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিখোঁজ দু’জনকে খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এই ঘটনায় তাঁদের পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তবে নিখোঁজ নাবিকদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না মেলা পর্যন্ত তাঁদের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

দ্বিতীয় জাহাজেও হামলা, নিরাপদে ভারতীয় নাবিকেরা

প্রথম জাহাজে হামলার ঘটনার পর একই জলপথে চলাচল করছিল মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমটি ভলথেরা। বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজেও ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। দ্বিতীয় জাহাজটির উপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্বস্তির বিষয়, ওই জাহাজে থাকা সমস্ত নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।

ঘটনার পর পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী নিখোঁজ দুই নাবিকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রথম জাহাজে হামলার পর দ্বিতীয় জাহাজটিও আক্রান্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে একই সময়ে ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলাচলকারী দু’টি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হল হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণ করা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা, জাহাজে হামলা কিংবা চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজার ও বাণিজ্যের উপর।

ভারতের ক্ষেত্রেও এই জলপথের গুরুত্ব যথেষ্ট। জ্বালানি আমদানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক পথগুলির নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে পণ্য পরিবহণের খরচ, জাহাজের বিমা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বজায় রাখা ভারতের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বার্তা ভারতের

পর পর দু’টি জাহাজে হামলার ঘটনায় নয়াদিল্লির কড়া প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে হামলা বন্ধ করার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ, সংঘাত বাড়তে থাকলে তার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ নাবিক, বাণিজ্যিক জাহাজের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উপর।

এই মুহূর্তে নিখোঁজ দুই ভারতীয় নাবিকের সন্ধান পাওয়াই সবচেয়ে জরুরি। তাঁদের উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে থাকলেও পর পর দু’টি জাহাজে হামলার ঘটনা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ভারত। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Post a Comment

Previous Post Next Post