ভোটে না দাঁড়ানোই ভা‍লো! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শ শুভেন্দু অধিকারীর



বয়সের কথা মাথায় রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর ভোটে না–লড়ার পরামর্শ দিলে‍ন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের কাজের গতি আরও বাড়ানোর আভাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে বিজেপি সরকারের প্রথম ছ’মাসের কাজকে ‘সকালের চা–বিস্কুটের’ সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দুর ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা, ‘ব্রেকফাস্ট–লাঞ্চ এখনও বাকি’।

এ বারের বিধানসভা ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর— দু’টি আসন থেকে লড়েছিলেন শুভে‍ন্দু। ভবানীপুরে তাঁর লড়াই ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। দু’টি আসনেই জিতেছেন শুভেন্দু। ফলে নিয়ম মেনে একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হতোই। মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক থাকার সিদ্ধা‍ন্ত নিয়েছেন। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এক লাখেরও বেশি ভোটে জিতেছেন।

হাসিরানির সমর্থনে ভোট প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামের ভোটারদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনারা অভিমান করবেন না। আমি ভবানীপুর ছেড়ে দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। তাই আমি নন্দীগ্রাম ছেড়েছি।’ এ দিন বিধানসভায় হাসিরানির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এসে শুভেন্দু ফের একবার তাঁর নন্দীগ্রাম ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নিশানা করেন মমতাকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই বয়সে আর ভোটে না–দাঁড়ানোই ভালো ওঁর (মমতা)। অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে। ৭৫ প্রায়। এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার কথা।’

শুভেন্দুর এই পরামর্শের প্রতিক্রিয়া দেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ‘মমতা–তৃণমূলের’ মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স নিয়ে যে মন্তব্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা অত্যন্ত কুরুচিকর। নরেন্দ্র মোদী তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকেও বয়সে বড়।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে আসলে প্রধানমন্ত্রীকে কি কোনও বার্তা দিতে চাইছেন শুভে‍ন্দু অধিকারী?’

বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মতে, বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটেছে। এবং বাংলায় তরুণ প্রজন্মের সরকার তৈরি হয়েছে। আর সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এ দিন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাঁর সরকার কতটা গতিশীল। শুভেন্দু বলেন, ‘এই সরকার মাত্র ছ’মাসের মধ্যে সকলের আস্থা অর্জন করার দিকে এগোচ্ছে। এ তো সকালবেলার ব্রেকফাস্ট হচ্ছে সরকারের। এখনও সাড়ে চার বছর বাকি। মানে, ৫৪ মাস। প্রথম ছ’মাসে যা দেখছেন, সেটা সকালবেলা চা–বিস্কুট খাওয়ার মতো। এখনও ব্রেকফাস্ট হয়নি। লাঞ্চ বাকি আছে। দেখতে থাকুন, কী ভাবে আমরা এগোই।’

Post a Comment

Previous Post Next Post