# কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় নিম্নচাপ ‘অর্ণব’-এর কাঁটা! ধনদেবীর আরাধনায় বাদ সাধবে দুর্যোগ? ২৮-৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলার আকাশে ফের দুর্যোগের আশঙ্কা। সামনেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ঘরে ঘরে ধনদেবীর আরাধনার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মাঝেই চিন্তা বাড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শক্তি বাড়িয়ে এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তার প্রভাবে রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সময়ে আবহাওয়া কতটা অনুকূল থাকবে, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
**বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ**
আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সেটি পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। শনিবার, ২৪ অক্টোবর, সেটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে রবিবার, ২৫ অক্টোবর, অতি-গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পরের পর্যায়েই রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর সকালে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। এরপর আরও শক্তি বাড়িয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।
**কাকিনাড়ার কাছে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়**
আবহাওয়াবিদদের প্রাথমিক অনুমান, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। কাকিনাড়ার কাছাকাছি এলাকায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি এবং স্থলভাগে প্রবেশের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় সম্পর্কে চূড়ান্ত পূর্বাভাসের জন্য আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
ঘূর্ণিঝড়টি বাংলার উপকূলে সরাসরি আছড়ে না পড়লেও তার প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়ায় পরিবর্তন ঘটতে পারে। সমুদ্রের পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
**২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা**
নিম্নচাপের সম্ভাব্য গতিপথ এবং শক্তি বৃদ্ধির পূর্বাভাসের জেরে বাংলায় বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি এবং পুজোর দিনগুলিতে বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের কিছুটা সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ করে যাঁরা পুজোর কেনাকাটা, প্রতিমা দর্শন কিংবা পরিবারের সঙ্গে বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখতে হবে। তবে কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হবে, তা জানতে জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাস অনুসরণ করা প্রয়োজন। বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বা অন্য কোনও সতর্কতা জারি হলে সেই অনুযায়ী সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
**সমুদ্রে যেতে নিষেধ, মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা**
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের শক্তি বাড়তে থাকায় সমুদ্রযাত্রা নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৭ অক্টোবর থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলে ছোট ও মাঝারি মাছ ধরার নৌকার ক্ষেত্রে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসা এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলতে বলা হচ্ছে।
**লক্ষ্মীপুজোর আনন্দে কি বাধা হয়ে দাঁড়াবে আবহাওয়া?**
দুর্গাপুজোর পর বাঙালির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। এই দিন বাড়িতে বাড়িতে লক্ষ্মীর আরাধনা, আলপনা, প্রদীপ জ্বালানো এবং নানা রকম আয়োজন চলে। কিন্তু সেই উৎসবের মুখেই বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পুজোর দিনগুলিতে আবহাওয়া কতটা অনুকূল থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যদিও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তার প্রভাবে বাংলায় বৃষ্টি হতে পারে। তাই এখনই আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়া দফতরের নিয়মিত আপডেটের দিকে নজর রাখা জরুরি। ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি, গতিপথ এবং বৃষ্টির পূর্বাভাসে পরিবর্তন হলে পরিস্থিতিও বদলাতে পারে।
সব মিলিয়ে, উৎসবের আবহে বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া মহল। এক দিকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা, অন্য দিকে বাংলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস—সব মিলিয়ে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে আবহাওয়া নিয়ে সতর্ক থাকাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।