ভোট ঘোষণার আগেই পাঞ্জাবে প্রার্থী তালিকা আপের, পুরনো আসনেই মান, রয়েছেন জেলবন্দি মন্ত্রীও


# ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই পাঞ্জাবে প্রার্থী তালিকা আপের! পুরনো কেন্দ্রেই ভগবন্ত মান, তালিকায় জেলবন্দি মন্ত্রীও

ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। তার আগেই পাঞ্জাবে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকটা এগিয়ে গেল আম আদমি পার্টি (আপ)। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আগেভাগেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে কার্যত নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে নেমে পড়ল আপ। প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানও। নিজের পুরনো কেন্দ্র ধুরি থেকেই ফের নির্বাচনে লড়বেন তিনি। তবে প্রার্থী তালিকার সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি মন্ত্রী সঞ্জীব আরোরার নাম। তাঁকেও প্রার্থী করেছে দল।

নির্বাচন কমিশনের তরফে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার আগেই প্রার্থী ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ বার্তা দিতে চাইল আপ নেতৃত্ব। সাধারণত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর রাজনৈতিক দলগুলি ধাপে ধাপে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে আগেভাগেই প্রার্থীদের নাম সামনে এনে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি বাড়াতে চাইছে কেজরিওয়ালের দল। এর ফলে প্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় প্রচার, জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময় পাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রকাশিত তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের। নিজের পুরনো বিধানসভা কেন্দ্র সঙ্গরুর জেলার ধুরি থেকেই ফের ভোটে লড়বেন তিনি। অর্থাৎ নিজের পরিচিত রাজনৈতিক জমিতেই আস্থা রাখছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। ধুরি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করার বার্তাও দিতে চাইছেন মান।

অন্যদিকে, প্রার্থী তালিকায় সঞ্জীব আরোরার নাম থাকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় বর্তমানে জেলবন্দি রয়েছেন আপের এই মন্ত্রী। তা সত্ত্বেও পশ্চিম লুধিয়ানা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে দল। ফলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়তে পারে শাসক শিবির। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন নেতাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে আপ নেতৃত্বের এই প্রার্থী ঘোষণা নিছক কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ নয়, বরং নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক শক্তি ও প্রস্তুতির জানান বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলিতে প্রচারের কাজ শুরু করে দিতে চাইছে দল। পাশাপাশি ভোটের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশলও রয়েছে এই সিদ্ধান্তের পিছনে।

পাঞ্জাবে ক্ষমতা ধরে রাখাই আপের কাছে অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই ভোটের অনেক আগে থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কেজরিওয়ালের দল। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের পুরনো কেন্দ্রে লড়াই এবং জেলবন্দি মন্ত্রী সঞ্জীব আরোরাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। এবার দেখার, আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী ময়দানে আপ কতটা সুবিধা আদায় করতে পারে এবং বিরোধী দলগুলি এই কৌশলের মোকাবিলা কীভাবে করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post