সপ্তম পে কমিশনের কাছে কেন্দ্রীয় হারে বেতনের দাবি শিক্ষকদের! সংকল্পপত্রের কথা মনে করিয়ে দিল সংগঠনগুলি


# সপ্তম পে কমিশনের কাছে কেন্দ্রীয় হারে বেতনের দাবি শিক্ষকদের! বিজেপির সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিল শিক্ষক সংগঠন

রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। তাই নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রকাশিত সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের স্কুল শিক্ষকদের বেতন কাঠামোও কেন্দ্রীয় সরকারের সমতুল্য করা হোক। সপ্তম পে কমিশনের কাছে এমনই দাবি জানালেন রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। শুধু কেন্দ্রীয় হারে বেতনই নয়, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি-সহ একাধিক আর্থিক সুযোগ-সুবিধা চালুর দাবিও তুলেছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের শিক্ষকরা বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের কেন্দ্রীয় হারে বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলেই মনে করছেন তাঁরা। সেই কারণেই সপ্তম পে কমিশনের কাছে কেন্দ্রীয় বেতন কাঠামো চালুর আবেদন জানানো হয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির তরফে এই দাবিগুলি কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, রাজ্যের স্কুল শিক্ষকদের জন্য কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামো চালুর দাবি জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ভাতার পরিমাণ অত্যন্ত কম বলে অভিযোগ শিক্ষক সংগঠনের। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই সামান্য অর্থে চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ সামাল দেওয়া কঠিন। তাই শিক্ষকদের চিকিৎসা ভাতা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, শিক্ষকদের দীর্ঘ কর্মজীবনে আর্থিক উন্নতির সুযোগ আরও বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ৮, ১৬ এবং ২৪ বছর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হলে ‘কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিম’-এর আওতায় আর্থিক সুবিধা দিতে হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কর্মরত শিক্ষকদের আর্থিক উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। চাকরির অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের মেয়াদকে গুরুত্ব দিয়ে বেতন কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি, যাঁরা ৩১ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবিও তুলেছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি। সংগঠনের বক্তব্য, দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করার পরও অনেক শিক্ষক প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা পান না। তাই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দিতে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ চালু করা প্রয়োজন।

এ ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলির প্রধানশিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি, দুই স্তরের স্কুলের প্রধানশিক্ষকদের দায়িত্ব ও কাজের ধরন বিবেচনা করে তাঁদের জন্য আলাদা বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হোক। স্কুল পরিচালনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রধানশিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা মাথায় রেখেই এই দাবি জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে সপ্তম পে কমিশনের কাছে শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, শুধু বেতন কাঠামো সংশোধন করলেই চলবে না, শিক্ষকদের চিকিৎসা ভাতা, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক উন্নতি এবং দীর্ঘ চাকরির মেয়াদে বিশেষ সুবিধার বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এখন দেখার, শিক্ষক সংগঠনগুলির এই দাবিগুলির মধ্যে কতগুলি সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশে জায়গা পায় এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে সরকার কী পদক্ষেপ করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post